গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের নজরে শুল্ক দফতরের চার আধিকারিক! দুর্নীতিতে শীর্ষকর্তারাও জড়িয়ে? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩

গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের নজরে শুল্ক দফতরের চার আধিকারিক! দুর্নীতিতে শীর্ষকর্তারাও জড়িয়ে?

 


নিজস্ব প্রতিনিধি:  শিক্ষক নিয়োগ থেকে কয়লা পাচার বা গরু পাচার কাণ্ড, প্রশাসনিক স্তরের শীর্ষকর্তাদের একাংশের নাম জড়িয়ে গিয়েছে। যত দিন যাচ্ছে ততই সন্দেহভাজনদের নাম উঠে আসছে। গরু পাচার কাণ্ডে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের নজরে শুল্ক দফতরের চার শীর্ষস্তরের কর্তা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছে তাঁদের। জানা গিয়েছে ওই চার আধিকারিক নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার গরু পাচার হয়েছে। তাই সেই পাচার সম্পর্কে ওই আধিকারিকদের কাছে কি কি তথ্য রয়েছে তা জানতে চান সিবিআই কর্তারা। গত শনিবার শুল্ক দফতরের ওই কর্তাদের বাড়িতে হঠাৎই হানা দেন সিবিআই আধিকারিকরা। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি অভিযান চালান তাঁরা। বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। এরপরই ওই চার আধিকারিককে তলব করেছে সিবিআই। সেই সঙ্গে গত দশ বছরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। হিসেব বহির্ভূত কোনও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন কিনা, সেটা দেখতেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি আনতে বলা হয়েছে তাঁদের। 


গরু পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল-সহ অনেকেই। কিন্তু সিবিআই নিশ্চিত প্রশাসনের উপরতলার সাহায্য ছাড়া এত বড় দুর্নীতি সংগঠিত করা সম্ভব ছিল না। সেদিকে লক্ষ্য রেখে গরু পাচার মামলায় ধৃতদের জেরা করে বহু তথ্য সিবিআই অফিসাররা হাতে পেয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আর সেই সূত্রেই সিবিআইয়ের স্ক্যানারে রয়েছেন শুল্ক দফতরের ওই চার কর্তা।


গরু পাচার কাণ্ডে বহুদিন ধরে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বছর আড়াই আগে বিএসএফের কমান্ড্যান্ট পদমর্যাদার আধিকারিক সতীশ কুমারকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সিবিআই জানতে পারে গরু পাচার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল হকের সিন্ডিকেটকে সাহায্য করতেন সতীশ। পরবর্তীকালে তদন্ত প্রক্রিয়া যত এগিয়েছে ততই একের পর এক রাঘববোয়াল ধরা পড়েছেন।
এর আগে কয়লা পাচার মামলায় কলকাতা তথা রাজ্য পুলিশের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্তাকে দিল্লিতে তলব করে ইডি। পুলিশ কর্তা জ্ঞানবন্ত সিং, রাজীব মিশ্র, শাম সিং-সহ অনেকেই তলব করা হয়েছিল। 

এখানেই শেষ নয়, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইডির চার্জশিটে নাম রয়েছে শিক্ষা সচিব আইএএস অফিসার মণীশ জৈনের। এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর দফতরে নিযুক্ত ডব্লিউবিসিএস অফিসার সুকান্ত আচার্যের নামও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষাকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক জগতের পাশাপাশি শিক্ষা জগত বা পুলিশ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা কীভাবে জড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন দুর্নীতি কাণ্ডে। আর এভাবেই কোটি কোটি টাকা তাঁদের ঘরে ঢুকেছে। এই চক্রের পুরোপুরি পর্দাফাঁস করাটাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাহলেই আরও কোনও বড় নাম উঠে আসার সম্ভাবনা থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন