নকল পা নিয়েই জীবনযুদ্ধে সফল সমীর, তাঁকে নিয়ে তৈরি হল তথ্যচিত্র - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩

নকল পা নিয়েই জীবনযুদ্ধে সফল সমীর, তাঁকে নিয়ে তৈরি হল তথ্যচিত্র



কাঁথি: ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তিনি৷  ট্রেনে উঠতে গিয়ে কাটা গিয়েছিল একটা পা৷ সেই ঘটনা বদলে দেয় তাঁর জীবন৷ কিন্তু, তিনিও যে হার মানার পাত্র নন৷ সমস্ত প্রতিকূলতাকে হার মানিয়েই জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলেছেন কাঁথি-৩ ব্লকের দহলাউদা গ্রামের বাসিন্দা সমীর হালদার। নকল পায়ের উপর ভর করেই এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ঘুরে ঘুরে মাছ বিক্রি করেন তিনি৷ সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে যায়৷ এক পা নিয়েই চলে মৎস্য ভেন্ডার ওই যুবকের লড়াই৷

দুর্ঘটনার পর মৎস্যদফতরের অধীন ‘বঙ্গ মৎস্য যোজনা’ প্রকল্পে তিনচাকার ছোট লরি এবং বরফ রাখার একখানি বাক্স পেয়েছিলেন সমীর। সেটাই তাঁর সম্বল৷ বছর পঁয়ত্রিশের ওই যুবকের জীবনযুদ্ধের কাহিনীকে বেকার যুবক যুবতীদের অনুপ্রেরণা করে তুলতে চাইছে  মৎস্যদফতর। বেশ কিছুদিন আগে মৎস্যদফতরের তরফে সমীরের ‘সাকসেস স্টোরি’ নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি করা হয়। তাছাড়া সম্প্রতি দীঘায় অনুষ্ঠিত উদ্যোগপতি উন্নয়ন কর্মশালায় প্রশাসনের আধিকারিকদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে সকলকে উদ্ধুদ্ধ করেন সমীর।

সমীরের বাবা-মা কলকাতায় থাকেন৷ বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বছর ছয়েক আগে ওড়িশাতে কাজ করতে গিয়েছিলেন সমীর। সেখানে ট্রেনে উঠতে গিয়ে পড়ে যান৷ গুরুতর জখম হন তিনি। তাঁর বাম পা কেটে বাদ দিতে হয়। বসানো হয় প্লাস্টিকের নকল পা৷ সমীর বলেন, ‘সেই সময়ে হাঁটতে গেলে কাটা পা দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরত। উপার্জন ছিল না। অন্যের কাছে ধার চাইতে গিয়েও হেনস্তা হতে হয়েছে।’  কিন্তু, বসে থাকেননি সমীর। নিজের পুরনো সাইকেল নিয়েই নকল পাকে সঙ্গী করে বেরিয়ে পড়েন সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করতে। ঘুরে ঘুরে গিনে গড়ে ৩০ কেজি মাছ বিক্রি করতেন। উপার্জন হত ৩০০ টাকার মত৷ সমীরের আবেদনে সাড়া দিয়ে তাঁকে তিনচাকার ছোট লরি এবং বরফ রাখার বাক্স দেয় মৎস্যদৎতর। তারপর আর থামতে হয়নি সমীরকে।  এখন পাঁচ-ছ’টি গ্রাম ঘুরে মাছ বিক্রি করেন সমীর৷ লাভও হয় বেশ ভাল৷ 





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন