কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নববর্ষে সকাল থেকে চলছে সিবিআই-এর ম্যারাথন চতুর্মুখী অভিযান৷ গোপাল দলপতির ভূপতিনগরের বাড়ির পর হৈমন্তীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাল সিবিআই৷ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কুন্তল ঘোষের মুখে প্রথম উঠ আসে হৈমন্তীর নাম৷
শনিবার হৈমন্তীর হরিদেবপুরের ফ্ল্যাটে তল্লাশি শুরু করে সিবিআই৷ এই ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ছিলেন গোপাল ও হৈমন্তী৷ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা গোপাল দলপতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং কোথায় কোথায় তাঁর সম্পত্তি রয়েছে, সেই তালিকাও তাঁদের হাতে এসেছে৷ এক যোগে একাধিক জায়গায় তল্লাশিও শুরু হয়েছে৷ হরিদেবপুরের এই ফ্ল্যাট এখন তালাবন্ধ৷ বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এই ফ্ল্যাটে যাতায়াত বন্ধ করেন গোপাল দলপতি৷ তবে হৈমন্তী মাঝেমধ্যে এখানে আসতেন৷ শনিবার তালা ভেঙে সেই ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢোকে সিবিআই৷
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের মুখে প্রথম উঠে আসে হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম৷ কুন্তলের বক্তব্য ছিল, নিয়োগ দুর্নীতির সবটা জানতেন হৈমন্তী। তিনি গোপাল দলপতি ওরফে আরমানের দ্বিতীয় স্ত্রী৷ তিনি নিজেও টাকা নিয়েছেন৷ তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, স্ত্রীয়ের ইচ্ছাতেই নিজের নাম পাল্টে আপমান করেছিলেন গোপাল৷ আরমান গঙ্গোপাধ্যায়ের নমিনি হিসাবে উল্লেখ রয়েছে হৈমন্তীর নাম৷ কুন্তলের দাবি অনুযায়ী নিয়োগ দুর্নীতিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন সবই জানতেই হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। এক সময় গোপাল দলপতিকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন হৈমন্তী। কিন্তু পরিবারের দাবি, বর্তমানে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। কুন্তলের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির টাকা পৌঁছেছিল হৈমন্তীর অ্যাকাউন্টেও।
নিয়োগ দুর্নীতিতে অপর এক ধৃত তাপস মণ্ডল দাবি করেন, ২০১৭ সালে গোপাল প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা তুলে কুন্তলকে দিয়েছেন। অন্যদিকে, গোপাল-হৈমন্তীর বেহালার ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়। তাতে চাকরিপ্রার্থীদের নাম এবং রোল নম্বর লেখা ছিল৷ অভিযোগ, চাকরি পেয়েছেন এমন তিন জনের নাম ছিস সেই তালিকায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন