সিপিএম না থাকলে কি হাল হতো শরিকদের? সেটাই কি স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩

সিপিএম না থাকলে কি হাল হতো শরিকদের? সেটাই কি স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন?


কলকাতা:  ড. মাখনলাল বাঙাল নামটা কারও মনে পড়ে? রাজ্য রাজনীতির খুঁটিনাটি খবর যারা রাখেন তাঁদেরও হয়ত চট করে নামটা মনে পড়বে না। তিনি তৎকালীন বামফ্রন্টের শরিক বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেসের প্রার্থী হন সবং বিধানসভা কেন্দ্রে৷ কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী মানস ভুঁইয়াকে হারিয়ে দেন তিনি। বলাবাহুল্য বামফ্রন্ট রক্ষা করার তাগিদে এই অখ্যাত শরিকদলকেও আসন ছাড়তে হতো সিপিএমকে। আর সিপিএমের ভোট পেয়েই জিততে পেরেছিলেন তিনি। এভাবে সিপিএমের উপর ভর করে দিনের পর দিন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার স্বাদ উপভোগ করেছে সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক, আরসিপিআই, ডিএসপি, সোশ্যালিস্ট পার্টির মতো শরিক দলগুলি। কিন্তু তাদের এমন ভাবভাব প্রকাশ পেত যাতে মনে হতো তাদের একক শক্তি বোধহয় কারও চেয়ে কম নয়। তাই রাজ্যে সিপিএমের শক্তি কমার সঙ্গে সঙ্গে এই দলগুলি অবস্থা এতটাই সঙ্গীন হয়েছে যে দূরবিন দিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। সদ্য সিপিআই জাতীয় দলের তকমা হারানোর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য দলেরও মর্যাদা হারিয়ে ফেলল আরএসপি।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বেড়েছে বামফ্রন্টের। কিন্তু এখন তো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হল।  তার বহু আগেই যে দলগুলির অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছিল সেটা তো সকলেরই জানা। কিন্ত শরিক দলগুলির লম্ফঝম্প ক'দিন আগেও কিন্তু বন্ধ হয়নি। যখনই বিধানসভা বা লোকসভায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করতে গিয়েছে সিপিএম, তখনই বেঁকে বসেছে আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো দলগুলি। যেমন ধরা যাক গত লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রের কথা। বামফ্রন্টের শর্ত অনুযায়ী এই কেন্দ্রটি বরাবর আরএসপি'কে ছেড়ে দেওয়া হতো। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপিকে হারানোর জন্য সিপিএম প্রস্তাব দেয় আরএসপি যেন সেখানে প্রার্থী না দেয়। কিন্তু বড় শরিক সিপিএমের কথা অগ্রাহ্য করে আরএসপি জোর করে বহরমপুরে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয়। সেই নির্বাচনে যথারীতি জয়লাভ করেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী। সেখানে আরএসপি প্রার্থী ইদ মহম্মদ ভোট পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৩৬২টি। মজার কথা সেবার ওই কেন্দ্রে নোটার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৪ হাজার ৮৬টি।  

রাজ্য রাজনীতিতে আরএসপির শক্তি কতটা রয়েছে, এতেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। অথচ টানা ৩৪ বছর যখন পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল তখন আরএসপির সবচেয়ে মজবুত ঘাঁটিগুলির একটি ছিল বহরমপুর তথা মুর্শিদাবাদ জেলা। আরও উদাহরণ আছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হলেও পুরুলিয়ার জয়পুর কেন্দ্রটিতে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে নাছোড় মনোভাব নেয়। খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী দাবি করেন ওই আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়লে তাঁরা জোটসঙ্গীর হাত ধরে সেটি জিতে দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর অনুরোধ উপেক্ষা করে ফরোয়ার্ড ব্লক সেখানে প্রার্থী দিয়ে ভোট পায় ১৯ হাজার ৪১৩টি। সেখানে কংগ্রেস একা লড়ে ভোট পেয়েছিল ৬২ হাজার ১৮০টি।

মজার কথা হচ্ছে সেই নির্বাচনে পুরুলিয়ার জয়পুর কেন্দ্রটিতে বিজেপি প্রার্থী জিতেছিলেন ১২ হাজার ২০০ ভোটের ব্যবধানে। তাই ফরওয়ার্ড ব্লক যদি প্রার্থী না দিত তাহলে অনায়াসে কংগ্রেস প্রার্থী সেখানে জিতে যেতেন। অতীতে মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে নির্বাচনে লড়াই করে ভোটে জিতে একাধিকবার মন্ত্রী হয়েছেন প্রতীম চট্টোপাধ্যায়। তারকেশ্বর কেন্দ্র থেকে সিপিএমের প্রতীকেই তিনি দাঁড়াতেন। এই দলটির কতজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন সেটা বোধহয় হাতে গুণে বলে দেওয়া যাবে। একই ভাবে বামফ্রন্টে থাকা সোশালিস্ট পার্টি, আরসিপিআই, ডিএসপি দলকে নিয়েও আলোচনা না করাই ভাল। প্রতি সপ্তাহে মাত্র একবারও কী এই দলগুলির রাজ্য অফিসের দরজা খোলা হয়? এই প্রশ্ন নতুন করে উঠতে শুরু করেছে। তাই নির্বাচন কমিশন এই ঘোষণা না করলে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির সঙ্গীন অবস্থার কথা এতটা হয়ত লোকে জানতে পারতেন না। তাই আগামী দিনে শরিক দলগুলির রাজ্য নেতৃত্ব তাঁদের চিন্তাভাবনায় বদল আনেন কিনা এখন সেটাই দেখার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন