ছ’ মাসেই মিড ডে মিলে ১০০ কোটির দুর্নীতি! রাজ্যে মিড ডে মিল নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট শিক্ষামন্ত্রকের - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩

ছ’ মাসেই মিড ডে মিলে ১০০ কোটির দুর্নীতি! রাজ্যে মিড ডে মিল নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট শিক্ষামন্ত্রকের



কলকাতা:  মিড ডে মিল নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রকের৷ বিরাট দুর্নীতির ইঙ্গিত৷ গত বছর ৬ মাসের মধ্যে মিড ডে মিল নিয়ে অন্তত ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ৷ তেমনই খবর পিটিআই সূত্রে৷ গত বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মাসের মধ্যে ১৬ কোটি অতিরিক্ত মিড ডে মিল দেখানো হয়েছে বলে দাবি৷ কেন্দ্রীয় সরকারকে পেশ করা রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে শিক্ষামন্ত্রকের প্যানেল৷ 

গত বছর প্রথম দুই অর্থবর্ষে রাজ্যের তরফে ১৪০ কোটি ২৫ লক্ষ মিড ডে মিলের রিপোর্ট দেখানো হয়৷ কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্টে দেখা যায় সেখানে ১২৪ কোটি ২২ লক্ষ মিড ডে মিলের উল্লেখ রয়েছে৷ এর পরেই পিএম পোষণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বিশেষ প্যানেল তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রক৷

শিক্ষামন্ত্রকের পেশ করা রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে মিড ডে মিলকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ তাঁদের কাছে উঠে আসছিল৷ এর পরেই জয়েন্ট রিভিউ মিশন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে৷ তদন্তে দেখা যায়, গত বছর ২০২২-এর এপ্রিল মাস থেকে  সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মিড ডে মিলের যে হিসাব উঠে আসছে, তাতে ১৬ কোটি অতিরিক্ত মিড ডে মিলের বিল পেশ করা হয়েছে৷ উদ্বৃত্ত টাকার পরিমাণ ১০০ কোটি৷ অর্থাৎ প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে মিড মিল নিয়ে। উল্লেখ্য বিষয় হল, এটা শুধুমাত্র ৬ মাসের হিসেব৷


প্রসঙ্গত, পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রাজ্য সরকারগুলিকে মিড ডে মিলের জন্য সাহায্য পাঠানো হয়৷ এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের জয়েন্ট রিভিউ মিশন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুরু করে৷ তদন্তের পর শিক্ষামন্ত্রকের কাছে তারা যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে, গত বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস সময়সীমার মধ্যে যত মিড ডে মিড পড়ুয়াদের দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মিড ডে মিলের হিসেব পেশ করে অতিরিক্ত অর্থ পিএম পোষণ প্রকল্প থেকে আদায় করা হয়েছে৷ এর পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি৷ এই হিসাব দেখিয়ে পিএম পোষণ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা তুলেছে রাজ্য৷ যা বিরাট বড় দুর্নীতি৷ পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছর ধরেই মিড মিলে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে৷ সেই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে গিয়েই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ 

এ প্রসঙ্গে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দুর্নীতি ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার মাঝে মধ্যেই রিপোর্ট দেয়৷ কিন্তু এর সুরাহা কী? তাহলে রাজ্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক৷’’ মিড ডে মিল দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী বিজেপি’ও৷ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ 

টুইট করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মিড ডে মিলে ১০০ কোটি টাকা বেশি দেখানো হয়েছে৷ জয়েন্ট রিভিউ মিশনের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে৷ পড়ুয়াদের খাবারের প্লেট থেকেও চুরি করতে ইতস্তত করে না তৃণমূল সরকার৷ মাত্র ৬ মাসে ১০০ কোটি তছরুপ৷ তাহলে ১২ বছরে কত টাকা চুরি হয়েছে ভাবুন! প্রশাসন চালানোর নামে দিনে-দুপুরে ডাকাতি করছে রাজ্য সরকার৷’’ 

এই নিয়ে টুইট করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে আমার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে যে এই জেআরএম রাজ্য সরকারের একমাত্র প্রতিনিধি রাজ্য অধিকর্তা, কুকড মিড ডে মিল-এর সই ছাড়াই এই রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷ সেই রিপোর্টটা যদি রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিকে দেখানো পর্যন্ত না হয়, তাহলে জয়েন্ট রিভিউ মিশন অর্থাৎ যৌথ পর্যালোচনা কমিটির ‘যৌথ’তা টা কোথায় রইলো?’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা তো পরিষ্কার যে রাজ্য সরকারের বক্তব্যওই রিপোর্টে যথাযথ ভাবে স্থান পায়নি৷ বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগ সেই মর্মে প্রতিবাদ করে একটা চিঠি ওই কমিটির চেয়ারপার্সনকে দিয়েছে,যার কোনও জবাব আজ অবধি আমরা পাইনি৷ এই ‘লুকোচুরি’ খেলাটার কী উদ্দেশ্য, যদি না এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও অভিসন্ধি থাকে?’’ তাঁর কথায়, ‘এখন প্রেস রিপোর্ট থেকে যা দেখছি, সেখানে প্রচুর তথ্য এবং সংখ্যা আছে, যা যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া দেওয়া কার্যত অসম্ভব৷ দ্বিতীয়ত, এটাও দেখা প্রয়োজন যে, জেআরএম রিপোর্টটিতে যা তথাকথিত ‘অবৈধতা’ বলা হচ্ছে, তাতে রাজ্য সরকারের বক্তব্য কতটা প্রতিফলিত হয়েছে৷ তার পরেই আমরা যথাযথ প্রতিক্রিয়া দিতে পারব৷’’







কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন