সামান্য একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনেও কেন্দ্রীয় বাহিনী, হৃতগৌরব হারাচ্ছে পুলিশ? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩

সামান্য একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনেও কেন্দ্রীয় বাহিনী, হৃতগৌরব হারাচ্ছে পুলিশ?

 


কলকাতা: হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কাজে লাগাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু প্রশ্ন রাজ্য পুলিশ কি নিরাপত্তা দিতে পারত না? রাজ্য পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের কি আর ভরসা নেই? এই প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেখানে রাজ্য পুলিশ দিয়েই সুষ্ঠুভাবে ভোট করাতে চাইছে রাজ্য। উল্টোদিকে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন করানোর দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। এই ইস্যুতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন। কংগ্রেসও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি তুলেছে। উল্টোদিকে তৃণমূল সরকারের যুক্তি সুষ্ঠুভাবে ভোট করানোর ব্যাপারে রাজ্য পুলিশই যথেষ্ট। কিন্তু হনুমান জয়ন্তী সুষ্ঠুভাবে পালন করার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে তাতে রাজ্যের মুখ পুড়েছে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।  


এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ''উচ্চ আদালত আস্থা রাখতে পারেনি। এটা রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতা। পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। অন্তত পুলিশ দফতরটা ছেড়ে দেওয়া উচিত৷"

বস্তুত বহুদিন ধরেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। একুশের নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে বহু জায়গায় সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। প্রাণ হারান বহু মানুষ। সেই ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতের নির্দেশে তার তদন্ত করছে সিবিআই। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রাজ্যের নানা প্রান্তে চোরাগোপ্তা অশান্তি হচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এই আবহের মধ্যে হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন। তার আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল সব দলকেই নির্দিষ্ট বার্তা দিয়ে দেবে। তাই বাংলার প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিজেদের মতো করে ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত। আর সেই সূত্রেই বিরোধীদের দাবি রাজ্য পুলিশ দিয়ে নির্বাচন করালে তা শান্তিপূর্ণ হবে না। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানাচ্ছে বিরোধীরা।

হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে মাত্র একটি দিনের জন্য মিছিল যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয় সে ব্যাপারে  কলকাতা হাইকোর্ট যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তার ভিত্তিতে বিরোধীদের আশা পঞ্চায়েত নির্বাচনেও আদালত এই ধরনের কিছু নির্দেশ দেবে। বিরোধীদের দাবি রাজ্য পুলিশের একাংশ যে অপদার্থের মতো কাজ করে তা কলকাতা হাইকোর্টের রায়েই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এটা স্পষ্ট যে হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারের যথেষ্ট অস্বস্তি বেড়েছে। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের দাবি মেনে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয় কিনা এখন সেটাই দেখার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন