সিউড়ি: চৈত্রের প্রখর গরমে। বাতাসে আগুনের হলকানি। এরই মধ্যে বীরভূমে সিউড়ির বেণীমাধব স্কুলের মাঠে সভা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ সভা মঞ্চের পিছনে লেখা ‘জনসম্পর্ক সমাবেশ’৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে তীব্র আক্রমণের মধ্যে দিয়ে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারের সূচনা করে দিয়ে গেলেন শাহ৷ তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই পড়ে যাবে তৃণমূল সরকার৷
শাহী মেজাজে আক্রমণ শানিয়ে এদিন অমিত বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী করতে হলে বাংলায় ৩৫টি আসনে পদ্মফুল ফোটাতে হবে। আর সেটা হলেই ২০২৫ সালের মধ্যে দেখবেন দিদির সরকার কাড়াড়াড়া ফুসসস হয়ে যাবে!’ তাঁর কথায়, ‘‘ওঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বানাতে হবে তো, তাহলে মোদীজিকে সমর্থন করুন।’’
পাল্টা হাত নেন তৃণমূল নেতা তাপস রায়ও৷ তিনি বলেন, ‘অমিত শাহ যে আসন সংখ্যা বেঁধে দিয়েছেন সেটা শুনে তো হেস্টিংসের ঘোড়াও হাসবে।’ তাপস আরও বলেন, ‘একুশের ভোটের আগেও বাংলায় ২০০ আসন পাওয়ার কথা বলেছিলেন অমিত শাহরা। তারপর বাংলার মানুষ কাকে ফুসস করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল তা সব্বাই দেখেছে।’
এদিকে, বারবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করেছে তৃণমূল। কিন্তু, সিউড়ির সভা থেকে আজ অমিত শাহ বুঝিয়ে দিলেন, তৃণমূল যতই যা বলুক তদন্ত চলবে। শাহের হুঁশিয়ারি, ‘পিসি-ভাইপো শুনে রাখুন, আপনারা যা ইচ্ছে করে নিন। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই থামবে না।’
এদিন সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকে ‘হিটলারি শাসন’ বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাউলের জেলা বীরভূমকে বোমাবন্দুকের জেলায় বানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। আর যিনি গরু পাচারের জন্য হাজতে গিয়েছেন, তাঁকে এখনও এই জেলার সভাপতি করে রেখে দিয়েছেন।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন