নয়াদিল্লি: নয়া পাঠ্যক্রমে রদবদল৷ সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল জাতির জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হত্যার প্রচেষ্টা, গান্ধী সম্পর্কে তাদের চিন্তাধারা ও গান্ধীহত্যার ‘অভিযোগে’ আরএসএসের উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত তিনটি অনুচ্ছেদ। নতুন শিক্ষাবর্ষে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)-এর সিলেবাস প্রকাশ পেতেই সমালোচনার ঝড়৷ গত ১৫ বছর ধরে এনসিইআরটি-এর দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই বিষয়গুলি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু নতুন সিলেবাসে বদলে গেল সেই পাঠ্যক্রম৷
এনসিইআরটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে গান্ধীজির নানা কথা, বিশেষত তাঁর হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি সংক্রান্ত চিন্তাভাবনার বিষয়টি। বিভাজনকামীদের চিন্তাভাবনার প্রতি তাঁর বিরূপ মনোভাব এবং ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের বিরোধিতা কোনও উল্লেখ নেই বইয়ের পাতায়। ছেঁটে ফেলা হয়েছে গান্ধীহত্যা পরবর্তী সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আরএসএসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার কথাও৷ ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারত সরকার যে দমন নীতি গ্রহণ করেছিল, সেই বিষয়টিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য পুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে পুণের ব্রাহ্মণ হিসেবে নাথুরাম গডসের পরিচয় বা গান্ধীজিকে ‘মুসলমান তোষণকারী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার বিষয়টি৷
শুধু তাই নয়, একাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ সমাজতত্ত্বের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার বিবরণ। এছাড়াও বাদ দেওয়া হয়েছে ষোড়শ-সপ্তদশ শতকের মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস, ব্রিটেনে সপ্তদশ শতকের শিল্পবিপ্লব, নকশাল আন্দোলন ও ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জাতীয় জরুরি অবস্থা ও সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক, ঠান্ডা যুদ্ধ ও বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন কর্তৃত্বের মতো বিষয়গুলি৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন