নয়াদিল্লি: কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেলিভিশন সাক্ষাৎকার নিয়ে হুলস্থূল৷ অভিযোগ উঠেছে সোজা সুপ্রিম কোর্টে৷ প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে চলছে মামলার শুনানি৷ অভিযোগ, স্কুল নিয়োগের দুর্নীতির মামলা শোনার সময়ই সেই মামলা নিয়ে টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। অভিযোগ শোনার পরই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, কোনও বিচারপতি তাঁদের এজলাসে চলা বিচারাধীন বিষয় নিয়ে টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন না। উনি যদি বিচারাধীন মামলা নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে থাকেন, তা হলে ওই মামলা শোনার অধিকার হারিয়েছেন। এখন প্রশ্ন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা সরিয়ে দেওয়া হলে, তিনি যে রায়গুলি দিয়েছেন, তার ভবিষ্যৎ কী হবে?
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে স্কুলের বিভিন্ন স্তরে যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ৷ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু ও বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চে সেই সব মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু, চাকরিহারাদের আইনজীবী মুকুল রোহতগি শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান৷ তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি শুক্রবার এ বিষয়ে রায় দেবেন। তার পর হাই কোর্টের বিচারপতির রায়ের বিরুদ্ধে শুনানি হোক। তবে প্রধান বিচারপতি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে, যদি বিচারপতি বিচারাধীন বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে থাকেন, তা হলে তিনি মামলা শোনার অধিকার হারিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে রোহতগির প্রশ্ন, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় মামলা শোনার অধিকার হারালে তাঁর রায়গুলির কী হবে?
পশ্চিমবঙ্গে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির গোটা বিষয়টি অনুধাবন করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ কমিটির রিপোর্টের উপরেই আস্থা রাখছে সুপ্রিম কোর্ট৷ কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগের কমিটিই স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করেছিল। পরে বিটারপতি গঙ্গোপাধ্যায় একাধিক মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন৷
স্কুল সার্ভিস কমিশন বা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ থেকে যাঁরা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন বা যাঁরা দুর্নীতি করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেল, তাঁদের কারও কাছেই বাগ কমিটির রিপোর্ট নেই। তাদের সকলের হাতেই বাগ কমিটির রিপোর্টের সারাংশ দেওয়া হবে। এদিকে সাক্ষাৎকার নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তিনি যখন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, উত্তরও তিনিই দেবেন। তবে ইস্তফার প্রশ্ন নেই৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন