বনগাঁ: রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ছিল ইন্ডিয়ান আইডল সিজন-১৩-র ড্রিম ফিনালে৷ প্রত্যাশিতভাবেই ট্রফি ওঠে অযোধ্যার ভূমিপুত্র ঋষি সিং-এর হাতে৷ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন বনগাঁর মেয়ে দেবস্মিতা রায়৷ বরাবরই শান্তশিষ্ট স্বভাবের দেবস্মিতা পড়াশোনা আর গানের মধ্যেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন৷ বনগাঁর কুমুদিনী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এই মেয়েটার গানের সুর সকলকে মুগ্ধ করত। সেই সুর এতটাই মজবুত ছিল যে, তার উপর ভর করে পৌঁছে যায় ইন্ডিয়ান আইডলের স্বপ্নের মঞ্চে। তাঁর অধ্যবসায় তাঁকে নিয়ে যায় চূড়ান্ত পর্বে৷ তবে প্রথম রানার আপ বা দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন ২২ বছরের দেবস্মিতা। একটুর জন্যে ফসকে যায় প্রথম স্থান৷ তবে এর জন্য আফসোস নেই তাঁর। কারণ তিনি দেশের মানুষের হৃদয় দিতে নিয়েছেন৷ তাঁর কন্ঠে মুগ্ধ বিচারকরা৷ ইতিমধ্যেই বলিউডে প্লেব্যাকের সুযোগও চলে এসেছে তাঁর ঝুলিতে।
বাবা দেবপ্রসাদ রায়ের কাছেই সঙ্গীত শিক্ষার হাতেখড়ি দেবস্মিতার। ক্লাসিক্যাল এবং পুরনো দিনের ছবির গানে বারবার বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন এই বঙ্গতনয়া৷ তাঁর সুরেলা কন্ঠে বুঁদ হয়েছে দর্শকমহল৷ ফাইনালের মঞ্চে আশা ভোসলের গাওয়া ‘জব ছায়ে মেরা জাদু’ গেয়েই তিনি দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নেন৷ তাঁর এই জয়ে খুশি বনগাঁবাসী৷ আজ তাঁদের কাছে গর্বের দিন। প্রসঙ্গত, ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১২-তে ফার্স্ট রানার আপ হয়েছিলেন এই বনগাঁরই মেয়ে, অরুনিতা কাঞ্জিলাল৷ জয়ের কাছে পৌঁছেও ট্রফি না জেতায় সেদিনও মন খাপার হয়েছিল বাঙালির৷ এবারও ঘটল তাই৷ ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারলেও ট্রফি অধরাই থাকল সোনাক্ষী, দেবস্মিতা, বিদিপ্তাদের কাছে।
এবারের ইন্ডিয়ান আইডলে ৬ ফাইনালিস্টের মধ্যে তিন মেয়েই ছিল বাংলার। দেবস্মিতা রায়, বিদিপ্তা চক্রবর্তী এবং সোনাক্ষী কর। তবে তাঁদেরকে পিছনে ফেলে ট্রফি উঠল ঋষি সিং-এর হাতে। তিনি অবশ্য প্রথম দিন থেকেই ছিলেন চর্চায়৷ বিজয়ীর ট্রফি জেতার পাশাপাশি এদিন দামী গাড়ি এবং ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার জেতেন ঋষি সিং। দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দেবস্মিতা ঝুলিতে আসে ১৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারমূল্য়।
তবে দেবস্মিতা ট্রফি জিততে না পারায়, হতাশ বাংলি দর্শকের একাংশ৷ ঋষিকে শুভেচ্ছা জানালেও, একটা হতাশা থেকেই যাচ্ছে৷ একজন কমেন্টে লেখেন, ‘জানতাম এবারেও বাংলা থেকে কাউকে ট্রফি দেওয়া হবে না। তবে একদিন এরা ঠিক বাধ্য হবে বাঙালিকে ট্রফি দিতে। তবে ঋষি যোগ্য। শুভেচ্ছা অনেক।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন