নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্তমান উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় একটা সময় বাংলার রাজ্যপালের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়ে দেখা গিয়েছে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তলানিতে এসে পৌঁছেছে, এই অভিযোগ শুধু রাজভবন থেকে টুইট করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, দিল্লিতে গিয়েও রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে এই দাবি করেছেন। এছাড়া কলকাতা বা বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েও সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্ব নিয়মিত রাজ্যপালের কাছে বিভিন্ন ইস্যুতে দরবার করতেন। তৃণমূল কটাক্ষ করে বলত রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতির বদল হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্যপাল হিসেবে এসেছেন সিভি আনন্দ বোস। আর তারপর থেকেই রাজভবনের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেছেন শুভেন্দু। রাজ্যে সাম্প্রতিককালে কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটায় উদ্বিগ্ন রাজ্য প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে ৩৫৫ ধারার সাহায্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার আর্জি জানান কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে, এই দাবি করছেন শুভেন্দু। কিন্তু রাজ্যপাল যে সেই পথে হাঁটবেন না তা স্পষ্ট। আর তাতেই শুভেন্দু নতুন করে সোচ্চার হয়েছেন সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে।
বাংলায় রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই নবান্নের সঙ্গে মসৃণ সম্পর্ক রেখে এগোতে দেখা গিয়েছে আনন্দ বোসকে। তখন থেকেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে শুরু করেন শুভেন্দু। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল নবান্নর কাছ থেকে সার্বিক রিপোর্ট চেয়েছেন। কিন্তু তাতে শুভেন্দু খুশি হচ্ছেন না। তাঁর দাবি রিপোর্ট চাওয়া নয়, রাজ্যপালকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। আসলে শুভেন্দু যেভাবে তৃণমূল সরকারকে লাগাতার নিশানা করছেন, সেটা বিজেপির অন্য কোনও নেতার ক্ষেত্রে ততটা দেখা যাচ্ছে না। এর আগে শুভেন্দু বহুবার নির্দিষ্ট তারিখের কথা বলে তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে নিশানা করে তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু একের পর এক তারিখ অতিক্রান্ত হয়েছে, বাস্তবে কোনও ঘটনাই ঘটেনি। যাতে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে বিরোধী দলনেতাকে। কেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব পদক্ষেপ করছেন না, তা নিয়ে শুভেন্দুর অনুগামীরাও ক্ষুব্ধ বলেই খবর। যদিও প্রকাশ্যে শুভেন্দু কোনও দিনই এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেননি। তবে এটা ঠিক শুভেন্দু যে সমস্ত দাবি করে চলেছেন তার একটিও কিন্তু পূরণ হয়নি। তাই শুভেন্দু নতুন করে যেভাবে রাজ্যে ৩৫৫ ধারা প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন সেই পদক্ষেপ যে করা হবে না তা বলাই যায়। সেই কারণেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নতুন করে শুভেন্দু সুর চড়াচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। কেন রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে পাঠাচ্ছেন না, সেই প্রশ্ন তুলছেন শুভেন্দু। তাই এই মুহূর্তে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করার পাশাপাশি রাজভবনের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই শুভেন্দুর কাছে। আর সেটাই করে চলেছেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন