কলকাতা: স্কুলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের (চিলড্রেন উইথ স্পেশাল নিডস) পড়ানো ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল৷ অবশেষে এই বিষয়ে তৎপরতা দেখাল রাজ্য সরকার। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল স্কুল শিক্ষা দফতরের মাধ্যমিক শাখা। এই মর্মে দ্রুত নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম বিধি তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে।
জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এই সংক্রান্ত নিয়োগ বিধি শিক্ষা দফতরে পেশ করা হবে। শিক্ষার অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী, ৬-১৪ বছরের সমস্ত শিশুদের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য সাধারণ স্কুলে স্পেশাল এডুকেশন শিক্ষক নিয়োগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু, দেশের অধিকাংশ রাজ্যই এই বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেনি৷ অবশেষে হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট৷ ২০১৬ সালে এক রায়ে শীর্ষ আদালত সেই নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। এর পরেও অবশ্য সাত বছর কেটে গিয়েছে। এত দিন পর অবশেষে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত স্কুলে তাঁদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণে শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগী হল রাজ্য।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত যে সব স্কুলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন চারজনের বেশি পড়ুয়া আছে, সেই সকল স্কুলগুলিতে আপাতত বিশেষ শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। পর্ষদ অনুমোদিত ৯৯৭১টি স্কুলের মধ্যে প্রথম দফায় ২৫৮৩টি স্কুলে বিশেষ এডুকেশন শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্য একজন করে জেলাভিত্তিক কো-অর্ডিনেটর, ছ'জন রিসোর্স পার্সন এবং স্কুলের সাধারণ শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে স্পেশাল এডুকেটররা ছিলেন। তাঁরা মূলত, স্কুলে-স্কুলে গিয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পাশাপাশি স্কুলের নির্দিষ্ট শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিতেন। তাঁরা ঠিক মতো পড়াচ্ছেন কিনা, সেদিকেও নজর রাখতেন৷ কিন্তু পার্সন উইথ ডিসএবিলিটিজ বিধি অনুসারে ২১ রকমের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতাকে চিহ্নিত করা হয়। সেই মতো স্কুলে-স্কুলে এবার স্থায়ী বিশেষ এডুকেশন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ।
স্কুলে স্পেশাল এডুকেশন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা মাস্ট৷ ওএমআর শিটেই হবে পরীক্ষা। তবে আবেদনকারী শিক্ষকদের রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার শংসাপত্র থাকা আবশ্যক। বিশেষ এডুকেশন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ভাইভার পাশাপাশি কীভাবে ক্লাস নেবেন তার ডেমোস্ট্রেশন দেখাতে হবে৷ তবে এই নিয়োগের জন্য বিশেষজ্ঞ বাছাই করাটাই এখন এসএসসি’র চিন্তার কারণ৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন