নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিয়মিত কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানাতে থাকেন রাজ্য নেতারা। নালিশ জানাতে দিল্লি ছুটে যান কখনও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, কখনও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য রাজনীতিতে এ অতি পরিচিত ছবি। কিন্তু বারবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছেন তৃণমূলকে হারাতে গেলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে রাজ্য বিজেপিকে। সেখানে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকা চলবে না। তবেই তৃণমূলকে হারানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব যেভাবে চলছে তাতে সেই আশা করা যায় না।
রাজ্য বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল কী আকার নিয়েছে তা ফের সামনে এসেছে দিল্লির ঘটনায়। দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করতে গিয়ে প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন দুই বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং দেবশ্রী চৌধুরী। যে ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্যের সমস্যার কথা দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে দু'জনের মধ্যে কে বলবেন তা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ দেখা যায় লকেট ও দেবশ্রীর মধ্যে। সেদিন মূলত লকেটকেই বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছিল। একটা সময় সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেবশ্রী। সেখানে উপস্থিত থাকা বিজেপি নেতা প্রেম শুক্লার সঙ্গে কথা বলার পরেই লকেটের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন দেবশ্রী। সবার সামনেই লকেটকে উদ্দেশ্য করে দেবশ্রী বলতে থাকেন,'' ডালখোলার হিংসা নিয়ে কথা বলার জন্য এই সাংবাদিক বৈঠকের গোটা ব্যবস্থা আমি করেছিলাম। কিন্তু তুমি হুগলি নিয়ে কথা বলে গেলে! আমি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এ ধরনের নোংরা রাজনীতি কোরো না''। লকেট তখন দেবশ্রীকে থামাতে গেলেও লাভ হয়নি। গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়ে যান দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব।
এর আগে হাজরার সভা থেকে নাম না করে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আবার মাঝেমধ্যেই শুভেন্দুকে একই ভাবে কটাক্ষ করেন দিলীপ। বস্তুত রাজ্য রাজনীতির তিন প্রধান নেতা সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সামান্যতম যে সমন্বয় নেই সেটা সকলেই জানেন। কিন্তু যেভাবে লকেট ও দেবশ্রী দিল্লি নেতৃত্বের সামনে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছে তা গোটা বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। তবে কি এভাবেই চলবে রাজ্য বিজেপি?
স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের বিষয়গুলি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে তৃণমূল। এতে রাজনৈতিক ময়দানে লাভই হয় রাজ্যের শাসক দলের। রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন এভাবে যদি রাজ্য বিজেপি চলতে থাকে তাহলে কোনও ভাবেই তৃণমূলকে তারা সরাতে পারবে না। একই ঘটনা দেখা যেত বাম আমলে। তখন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যে এমনই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা যেত। অর্থাৎ সেই ট্র্যাডিশন যেন সমানে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব বারবার রাজ্য নেতৃত্বকে একজোট হয়ে তৃণমূলের মোকাবিলা করার কথা বলছেন। কিন্তু আদপে তা কতটা সম্ভব হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন