অস্বাভাবিক আচরণ অনুব্রত কন্যার, ভাঙচুর করলেন জিনিসপত্র! কেন এমন আচরণ, তবে কী বড় কিছু ঘটতে চলেছে? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩

অস্বাভাবিক আচরণ অনুব্রত কন্যার, ভাঙচুর করলেন জিনিসপত্র! কেন এমন আচরণ, তবে কী বড় কিছু ঘটতে চলেছে?



নিজস্ব প্রতিনিধি:
হঠাৎই অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গেল জেলবন্দি বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কন্যা সুকন্যা মণ্ডলকে। দীর্ঘদিন জেলবন্দি রয়েছেন বাবা অনুব্রত। এতদিন ছিলেন আসানসোল জেলে। বর্তমানে তাঁর ঠাঁই হয়েছে তিহাড় জেলে। এই পরিস্থিতিতে রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র-সহ বহু জিনিসপত্র ভাঙতে শুরু করেন অনুব্রত কন্যা সুকন্যা মণ্ডল। যা দেখে হতবাক  হয়ে যান সেখানে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা। 

 

এরপর তাঁরা বীরভূম জেলা তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়ে ফোন করে বিষয়টির কথা জানান। খবর পেয়েই তৃণমূলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা চলে আসেন সেখানে। এমনকী খবর পেয়ে রাজ্যের মন্ত্রীর চন্দ্রনাথ সিংহ পর্যন্ত সেখানে গিয়েছিলেন বলে খবর। তখন সুকন্যাকে ক্ষোভের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলার পরেও পাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। কেউ খোঁজখবর নেন না। বাবার এরকম অবস্থা, আর সকলে মজা দেখছে"! একথা বলতে বলতে রীতিমতো ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। তখন ক্ষুব্ধ সুকন্যাকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে আরও বলতে শোনা যায়, "কাউকে ছাড়া হবে না। বাবার কিছু হলে কেউ রেহাই পাবেন না"।

 

রীতিমতো চিৎকার করে এ কথা বলতে থাকেন তিনি। হঠাৎ এমন কথা কেন বললেন সুকন্যা? তবে কি গরু পাচার কাণ্ডের তদন্ত এমন নাটকীয় মোড় নিতে পারে যাতে আরও বড় কিছু ঘটতে পারে? আর সেসব আন্দাজ করেই কী সুকন্যা অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত হয়ে তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন? এই প্রশ্ন কিন্তু উঠছে। উল্লেখ্য সুকন্যার মা দু'বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন। বাবা অনুব্রত রয়েছেন তিহাড় জেলে। এই পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদ থেকেই তাঁর এমন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   

 

ওয়াকিবহাল মহলের মতে যে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির সঙ্গে অনুব্রতর সরাসরি যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে সেই তদন্তের পরিণতি কি হতে পারে তা ভালই আঁচ করতে পারছেন সুকন্যা। শুধু তাই নয়, গরু পাচার কাণ্ডে তাঁকে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডি আধিকারিকরা। ফের তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। তাই আগামী দিনে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হবে না তো যেখানে অনুব্রত এবং সুকন্যাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে? এই  সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য সুকন্যা রাগের মাথায় বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্দেশে এটাও বলেছেন, বাবার কিছু হয়ে গেলে কেউ রেহাই পাবেন না। কিছু বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন? রেহাই পাবেন না  বলেও কি বোঝাতে চেয়েছেন সুকন্যা? সেটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি আগামী দিনে তদন্তের গতিপথ এমন দিকে বাঁক নেবে যাতে অনুব্রত ও সুকন্যার পাশাপাশি বীরভূম জেলার বহু তৃণমূল নেতা সমস্যায় পড়বেন? তবে কি গরু পাচার কাণ্ডে আরও নতুন কোনও নাম উঠে আসতে পারে? এই প্রশ্ন অবধারিত ভাবে উঠছে। তাই সুকন্যার তীব্র রাগের বহিঃপ্রকাশকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দেখার কতটা যৌক্তিকতা আছে তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন