ওয়াশিংটন: বাঙালির কাছে ভাতের পর সবচেয়ে পছন্দের খাবারের কথা যদি বলতেই হয় তা হল রুটি। তুলতুলে-গরম রুটি পাতে পরলে মিনিটেই তা সাবাড়... চাটুতে হাল্কা সেঁকে, আগুনে এপিঠ-ওপিঠ ঝলসে নিলেই ফুলে ওঠে রুটি। মা-ঠাকুমাদের আমল থেকে এইভাবেই তৈরি হয়ে আসছে রুটি। আগে কাঠকয়লার উনুন ব্যবহার হলেও আজকাল গ্যাস ওভেনেও একই কায়দায় রুটি করে থাকেন সবাই।
সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে, এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদ! রান্নার কাজে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্টোভ এবং কুকটপের আগুনে রুটি করা মারাত্মক বিপদজনক। এর থেকে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মারণরোগ!
জার্নাল অফ এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণা। যেখানে বলা হয়েছে, গ্যাসের ওভেন থেকে কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম কণা নির্গত হয়। যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে এই ধরণের দূষিত পদার্থ থেকে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাও ডেকে আনে। এমনকি, ঝুঁকি বাড়ে ক্যানসারের।
কারণ, সরাসরি আগুনে সেঁকা খাবার থেকে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে ওই গবেষণায়। যদিও কম সময়ে রুটি করতে বেশির ভাগ মানুষই এই পদ্ধতি বেছে নেয়।
নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্যান্সার জার্নালের আরও একটি গবেষণাতেও একই কথা বলা হয়েছে। ২০১১ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাই ফ্লেমে খাবার রান্না করলে ‘কার্সিনোজেন’ তৈরি হয়। যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পক্ষে ভাল বলে বিবেচিত নয়। রুটি সরাসরি আগুনের শিখার সংস্পর্শে এলে, এর থেকে অ্যাক্রিলামাইড নামক রাসায়নিক তৈরি হয়। যা ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যে গমের আটার মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি এবং প্রোটিন থাকে, সেই আটার রুটি উত্তপ্ত হলে কার্সিনোজেনিক রাসায়নিক উৎপাদন করে। যার ব্যবহার নিরাপদ বলে মনে করা হয়না। দীর্ঘ দিন ধরে এই ধরনের পোড়া খাবার মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলতে গেলে আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সরাসরি গ্যাসের আঁচে রুটি ফোলানো বা বেশি আঁচে সেঁকা উচিত নয়। এর ফলে কার্বনাইজড কণা ও বিষাক্ত উপাদান শরীরেও চলে যায়। যা থেকে বাড়ে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। তাই আজই সতর্ক হন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন