কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ দিন ধরেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র নজরে ছিলেন গোপাল দলপতি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে ইডি-র চার্জশিটে। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর আতস কাঁচে গোপাল৷ এদিন তাঁর পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালাল সিবিআই।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই গোপাল দলপতির বাড়িতে হানা দিয়ে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসাররা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের মুখে প্রথম উঠে এসেছিল গোপাল দলপতির দ্বিতীয় স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। সেই নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি৷ যদিও সেই সময় হৈমন্তীর পাশে দাঁড়িয়ে গোপাল বলেছিলেন, হৈমন্তী এই বিষয়ে কিছু জানেন না। একইসঙ্গে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হতে চলেছে বলেও জানান গোপাল৷
শুক্রবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআই। তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ি, অফিসের পাশাপাশি তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজরে গোপাল।
নিয়োগ দুর্নীতিতে কী ভূমিকা গোপালের?
তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে তুষ্ট করার উপায় বলে দিতেন এই গোপালই। ইতিমধ্যেই তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি-সিবিআই। কুন্তলের গ্রেফতারির পর আদালতে একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। যা গোপাল দলপতির মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে।
কে এই গোপাল দলপতি?
পেশায় অঙ্কের শিক্ষক গোপাল এক সময় পানের দোকানে কাজ করতেন। দমদম ক্যান্টনমেন্টের সেই দোকানের উপর নির্ভর করেই সংসার চলত তাঁর। বাবা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর পানের দোকানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন গোপাল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন