বড়ঞা: সিবিআই-এর হাত থেকে তথ্য লুকাতে নিজের দুটেি মোবাইল ছুড়ে ফেলেছিলেন বাড়ির পাশের পুকুরে৷ পুকুরের জল ছেঁচে পাক থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করেছে সিবিআই৷ আরেকটির খোঁজ অবশ্য মেলেনি৷ পুকুরের জলে ডোবানো ওই মোবাইল থেকেই কি উদ্ধার হবে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য? গোয়েন্দারা মনে করছেন, ওই মোবাইলেই বন্দি রয়েছে ৭০ শতাংশ তথ্য৷
পুকুরের জল ছেঁচে শুরু হয় জীবনকৃষ্ণর মোবাইলের খোঁজ৷ ৩৮ ঘণ্টা পর তাঁর বাড়ি সংলগ্ন পুকুর খেতে উদ্ধার হয় একটি মোবাইল৷ কিন্তু জলে ডোবা মোবাইল নিয়ে সন্দিহান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। যদিও সিবিআই ফরেন্সিকের সাহায্যে মোবাইলের ‘ডেটা’ উদ্ধারের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘক্ষণ জলে ডুবে থাকলেও তথ্য উদ্ধারের সম্ভাবনা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।
অভিযোগ, বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি চালানোর সময় নিজের দু’টি মোবাইল বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেন বিধায়ক। পুকুরের জল ছেঁচে লোক নামিয়ে পাক থেকে একটি মোবাইলটি উদ্ধার করে আনা হয়৷ প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয় সেই মোবাইল। অন্য মোবাইলটি তন্নতন্ন করে খুঁজলেও, তা উদ্ধার হয়নি৷ সিবিআই-এর তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের মতো ওই বিধায়কও নিজের মোবাইলেই চাকরিপ্রার্থীদের নাম, তথ্য রেখেছিলেন। এছাড়াও কোন কোন প্রভাবশালীর সঙ্গে বিধায়কের হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন হয়েছিল, সেই তথ্যও তিনি লোপাট করতে চেয়েছিলেন৷
মোবাইলে বন্দি ভয়েস রেকর্ডের খোঁজও চালানো হচ্ছে। সিবিআইয়ের অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বড়ঞার বিধায়কের। অন্তত ৪ হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন তিনি। কয়েকশো কোটি টাকা তিনি তুলেছিলেন তাঁর নিজের জেলা মুর্শিদাবাদ থেকেই। নবম-দশম শ্রেণি, প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি শিক্ষক, গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগেও তাঁর হাত ছিল বলে অভিযোগ।
তবে জল থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল থেকে কতটা তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান সাইবার বিশেষজ্ঞরা দ্বিধাবিভক্ত। সাম্যজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, আই ফোন বা আধুনিক অ্যানড্রয়েড ফোনে জল নিরোধক ব্যবস্থা থাকে। জলে ডুবে গেলেও সাধারণত ৩০ মিনিট পর্যন্ত তাতে কোনও সমস্যা হয় না৷ কিন্তু, এর পর থেকে মোবাইলের ব্যাটারি বা আইসিতে সমস্যা দেখা দিতে থাকে। জলে দীর্ঘক্ষণ থাকলে মুছে যেতে পারে ডেটা।
সাইবার বিশেষজ্ঞ হৃত্বিক লালের কথায়, জল থেকে মোবাইল উদ্ধারের পর সেখান থেকে ডেটা উদ্ধার করতে পারেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে মোবাইল খুলে তার অংশগুলি আলাদা করে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর সেই অংশগুলি পরিষ্কার করে নিতে হবে। সাধারণত মোবাইলের মধ্যে ব্যাটারি এখন ‘ইনবিল্ট’ অবস্থায় থাকে। ভেজা অবস্থায় মোবাইল চালু করতে গেলে শর্ট সার্কিট হয়ে যেতে পারে। মোবাইল শুকিয়ে নেওয়ার পর ফরেনসিক ‘লক ব্রেকিং মেকানিজম’-এর সাহায্যে সেখান থেকে ডেটা উদ্ধার করে আনা সম্ভব৷ তবে ১০০ শতাংশ ডেটা উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব৷ এভাবে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মোবাইল ডেটা উদ্ধার হতে পারে৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন