কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সদ্য গ্রেফতার বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পেল সিবিআই৷ পাশাপাশি বেনামে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তাকারী সংস্থা৷ হদিশ মিলেছে তাঁর স্ত্রী টগরি সাহার নামে থাকা অ্যাকাউন্টেরও। সেই অ্যাকাউন্টগুলি এখন সিবিআই-এর আঁতস কাচে৷ সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি অন্য জেলাতেও তৃণমূল বিধায়কের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে ধরে নিয়ে খোঁজ শুরু হয়েছে।
নির্বাচনী হলফনামায় জীবনকৃষ্ণ যে সম্পত্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে সিবিআই। যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে তদন্তকারী অফিসারদের। বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার নিজস্ব ৮টি অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি আর স্ত্রী টগরীর নামে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকউন্ট রয়েছে। সিবিআই আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, তৃণমূল বিধায়কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। গ্রেফতার হওয়ার পর আপাতত চারদিনের হেফাজতে রয়েছে জীবন৷ সিবিআইয়ের নজর রয়েছে বিধায়কের বিপুল সম্পত্তির উপর।
পেশায় স্কুল শিক্ষক জীবনকে বিধায়ক হওয়ার ‘সুবাদে’ কখনও স্কুলে পড়াতে যেতে হত না। বরং মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলায় রমরমিয়ে ব্যবসা করতেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সাঁইথিয়ায় একটি চালকল, দু’টি হিমঘর, একটি বসত বাড়ি ছাড়াও সাঁইথিয়া থানার অন্তর্গত লাউটরি মৌজায় প্রায় ২০-২২ কাঠা জমি রয়েছে জীবনকৃষ্ণের নামে। সাঁইথিয়া পুরসভা এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় তাঁর জমি রয়েছে বলেও সরকারি তথ্যে খবর। সেই সব জমির বর্তমান বাজারমূল্য কমকরে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা।
সাঁইথিয়া ছাড়াও, বোলপুরের তাতারপুর, বাঁধগোড়া, তালতোড় মৌজা মিলিয়ে প্রায় ২১৫.৪৭ শতক অর্থাৎ ১৩০ কাঠার বেশি জমির মালিক জীবনকৃষ্ণ সাহা৷ এই জমির আনুমানিক বাজার দর ৬ কোটির উপরে। সরকারি নথি বলছে, জীবনের নামে এই সমস্ত জমি নথিভুক্ত হয় ২০১৩-২০২২ সালের মধ্যে। জীবন একা নন, তাঁর স্ত্রী টগরীর নামেও আন্দি বাজার এলাকায় জমি-বাড়ি রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় দু’কোটি টাকা।
এতো গেল জমি বাড়ির কথা৷ এর পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত জীবনকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী টগরীর নামে থাকা ১১টি অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৩০ টাকার হদিশ পেয়েছে সিবিআই। এর মধ্যে আটটি অ্যাকাউন্ট জীবনকৃষ্ণের নামে, বাকি তিনটি স্ত্রী টগরীর নামে। জীবনের হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে সিবিআই৷ অনেকেরই অনুমান, বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাক্ষিণ্যেই এই বিপুল ‘লক্ষ্মীলাভ’ হয়েছিল জীবনকৃষ্ণের।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন