কলকাতা: শিক্ষায় নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে গত বছর জুলাই মাসে গ্রেফতার হন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়৷ অর্পিতার টালিগঞ্জ ও বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় তাড় তাড়া নোটের বান্ডিল৷ ইডির হাতে আসে বহুমূল্যের সোনার গয়না। গ্রেফতার হওয়ার পর পার্থ ও অর্পিতার নামে একের পর এক বাড়ি বা গেস্ট হাউজের হদিশ পান তদন্তকারী অফিসাররা৷ খোঁজ মেলে স্কুলেরও। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পারেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে 'অপা'-র (পার্থ ও অর্পিতার নামের আদ্যক্ষর জুড়ে) বিপুল সম্পত্তি রয়েছে৷
অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২২ কোটি টাকা৷ বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাটে মেলে প্রায় ২৮ কোটি টাকা৷ এছাড়াও অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫ কোটি টাকার গয়না৷ বেলঘরিয়ার টাউনহাইটস-এর ফ্ল্যাটটিও বেনামে অর্পিতারই৷ এছাড়াও শান্তিনিকেতন সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে পার্থ অর্পিতার নামে একাধিক বাড়ি, বাংলো গেস্ট হাউস৷ কসবার ইচ্ছে এন্টারটেইনমেন্ট প্রইভেট লিমিটেডও নাকি বেনামে অপা-রই সংস্থা৷ এছাড়াও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াত স্ত্রী বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের নামেও স্কুল রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায়৷ ইডি সূত্রে দাবি, নামে বেনামে উদ্ধার হওয়া পার্থ ও অর্পিতার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা৷ কিন্তু এই বিপিল সম্পত্তির মালিকানা অস্বীকার করছেন দু’জনেই৷ তারা দায় এড়ানোয় চিন্তায় ইডি আধিকারিকরা।
সাধারণত ইডি কোনও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলে, দিল্লিতে ইডির অ্যাজুটিকেটিভ অথরিটি সেই সম্পত্তি সম্পর্কে বিশদে জানতে চায়৷ কিন্তু ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্থ এবং অর্পিতা দু'জনই জানিয়েছে এই সম্পত্তির মালিকানা অস্বীকার করেছেন৷ তাঁদের আইনজীবী দিল্লি গিয়ে জানিয়ে এসেছেন উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি তাঁদের মক্কেলদের নয়। আইনজীবী মারফত অর্পিতা ইডিকে বারবার জানিয়েছেন, তাঁর ফ্ল্যাট থেকে নগদ টাকা উদ্ধার হলেও, সেই টাকার মালিক তিনি নন। শুধু টাকাই নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াত স্ত্রী বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের নামে যে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলটি রয়েছে, তার মালিকানাও অস্বীকার করেছেন পার্থ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন