‘বান্ধবী’কে ৬০ লাখের ফ্ল্যাট উপহার ASI-এর! বাংলার এই পুলিশকর্তার ‘কীর্তি’ চমকে দেবে আপনাকে - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫

‘বান্ধবী’কে ৬০ লাখের ফ্ল্যাট উপহার ASI-এর! বাংলার এই পুলিশকর্তার ‘কীর্তি’ চমকে দেবে আপনাকে





 

 কলকাতা: রাজ্য এসটিএফ থেকে বহিষ্কৃত এএসআই শান্তনুর একের পর এক ‘কীর্তি’ প্রকাশ্যে আসছে! মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অবৈধ উপায়ে রোজগার। আর সেই টাকায় বান্ধবীকে হাওড়ায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটও তিনি কিনে দিয়েছিলেন বলে জানতে পারছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই ফ্ল্যাটের দাম ৬০ লক্ষ টাকা! তিনি নিজেও সেখানে গিয়ে মাঝেমধ্যে রাত কাটাতেন বলে খবর। অভিযুক্ত এএসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে রানাঘাট জেলা পুলিস জানতে পেরেছে, ওই বান্ধবীর সঙ্গে কিছুদিন আগেই সম্পর্কে জড়ান শান্তনু মণ্ডল। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতেও গিয়েছেন। আর উড়িয়েছেন দেদার টাকা। প্রতারণা বা তোলাবাজি, যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বিপুল অঙ্ক ওই এএসআই নিয়েছেন নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই। তাঁর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য ব্যাঙ্কের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে অবৈধ টাকায় কেনা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে খবর। 

তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো, এসটিএফ সহ বিভিন্ন এজেন্সির নাম করেই নোটিস পাঠাতেন শান্তনু। সেই নোটিসের কপি হাতে এসেছে তদন্তকারী অফিসারদের। ওইসব নথি এএসআই কোথায় তৈরি করতেন, তা জানার চেষ্টা করছেন অফিসাররা। তাঁর ল্যাপটপ এবং মোবাইলে এর সূত্র লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। এছাড়াও শীর্ষ অফিসারদের সই কীভাবে বহিষ্কৃত শান্তনু জানলেন এবং নিখুঁতভাবে নকল করলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।
বহিষ্কৃত ওই পুলিসকর্মী যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নোটিস পাঠাচ্ছেন, এই খবর প্রথম এসটিএফের কানে পৌঁছয়। এসটিএফ অফিসারদের তৎপরতায় গোটা বিষয়ের পর্দা ফাঁস হয়। তাঁকে প্রথমেই দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এসটিএফ সূত্রে খবর, এরপর তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় বিভাগীয় তদন্ত। অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে ওই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সারবত্তা মেলার পরই বিন্দুমাত্র দেরি করেননি এসটিএফ কর্তারা। পত্রপাঠ শান্তনুকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন তাঁরা। মসিউর মল্লিক নামে যে ব্যক্তি টাকা দিয়েছিলেন, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। তারপর রানাঘাট পুলিস জেলাকে এএসআইয়ের বহিষ্কারের তথ্য সহ বিস্তারিত জানিয়ে এফআইআর রুজু করতে নির্দেশ দেয় এসটিএফই। তবে নারকোটিক্স বা এসটিএফের অফিসারদের নামে নোটিস পাঠালেও ইডি-সিবিআইয়ের অফিসারদের সই নকলের বিষয়টি নিশ্চিত করছে না এসটিএফ। তারা দাবি করেছে, এসটিএফের অফিস ব্যবহার করে শান্তনু মণ্ডল কাউকে নোটিস পাঠাননি।

রানাঘাট জেলা পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারছে, মাদক মামলা বা গেমিং অ্যাপে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে তিনি যে অবৈধ উপায়ে রোজগার করেছিলেন, তা দিয়েই বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এগুলি কোথায় রয়েছে জানতে তাঁকে হাতে পাওয়া জরুরি। তবে ওই এএসআই বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট বা জমি কিনতেন। কারণ তিনি জানতেন, নগদে সম্পত্তি কিনলেই এজেন্সির নজরে এসে যাবেন তিনি। কিন্তু লোন নিলে নজরে আসার সম্ভাবনা কম। বান্ধবীর ফ্ল্যাটটি এভাবেই কেনা। তা সত্ত্বেও অবৈধভাবে আসা নগদ কেন তিনি ব্যাঙ্কে জমা করতেন, সেই প্রশ্ন থাকছেই।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন