ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনও উদ্যোগ না থাকায়, ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং এই উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে জানা যায়। তবে, সরকারের বাধা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ রাজধানী ঢাকায় একটি মিছিল বের করে, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথমে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ বাতিল করে দিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৬ মার্চ ঢাকায় স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানিয়েছিলেন, "গতবার কুচকাওয়াজ হয়নি, এবারও হচ্ছে না। আমরা এখন একটা যুদ্ধাবস্থায় আছি, আনন্দ করার মেজাজে নেই।" তবে, বিতর্ক শুরু হওয়ার পর প্রশাসন পিছু হটে এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা ব্যতীত অন্য ৬৩টি জেলায় কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হবে। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ চলার কারণে সেখানে কুচকাওয়াজ আয়োজন করা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।
স্বাধীনতা দিবসে ঢাকার কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখার জন্য স্টেডিয়াম সংস্কারের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে। তাদের মতে, জাতীয় স্টেডিয়াম ছাড়াও ঢাকা ও আশেপাশে আরও অনেক স্টেডিয়াম রয়েছে, যেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেত। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে কার্যত ‘বয়কট’ করার কারণেই কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছে। ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানেও ইউনুস রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মুখোমুখি হননি। এছাড়া, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের ভূমিকার প্রসঙ্গ এড়ানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরকার ঢাকা বাদে অন্যান্য জেলাগুলোতে কুচকাওয়াজের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন