আইসিসির কোনও টুর্নামেন্ট ইডেনে ম্যাচ আনতে কালঘাম ছুটে যায় সিএবি কর্তাদের। পরমুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হয় বেশিরভাগ সময়। বাংলার বাঙালি ক্রিকেটারদের জন্য দরবার করার মতোও যেন কেউ নেই। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট কলকাতা নাইট রাইডার্স গতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নিয়ম মেনেই এবার উদ্বোধন ও ফাইনাল পায় ইডেন গার্ডেন্স। তাতে সিএবি কর্তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না। কিন্তু আইপিএলের আগে অধিনায়ককের মিটিং কলকাতাতে হচ্ছে না। সাধারণত এই মিটিং হয় উদ্বোধনী ম্যাচের আয়োজক শহরেই। কলকাতা ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। তা হবে মার্চের ২০ তারিখ মুম্বইতে সমস্ত দলের অধিনায়কদের বিসিসিআইয়ের সদর দফতরে থাকতে বলা হয়েছে। আইপিএল গভর্নিং বডিতে রয়েছেন প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। তাঁকে সিএবি ‘দূষ্যোভাতো’ করেই ব্যবহার করে। বাকি কর্তাদের আইপিএলে কোনও ভূমিকাই নেই। প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার সাজিয়ে দেওয়া পথেই শুধু ইডেন নির্ভর করে যায়। তিনি থাকলে, এমন দুর্দিন ভাবাই যায় না। কিছুটা হাল ধরেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন সিএবি সভাপতি হয়েছিলেন। ধারেভারে তিনি প্রভাব ফেলতেন ভারতীয় ক্রিকেটে। কিন্তু এরপর সিএবি কর্তারা যেন শামুকের খোলসের ভিতর ঢুকে গেছে। হতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট, কিন্তু সিএবির এমন সুযোগে বালকের ভূমিকায় থাকার মানে কী!
অতীতে ২০১০ সালে এই ক্যাপ্টেন মিটিংয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল গুজরাটের আহমেদাবাদ। ২০২৪ সালে একই ছবি দেখা গেছে চেন্নাইতেও। মিটিং রুক্ষদার হলেও, ফটোসেশনে হাজির হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের অধিনায়করা। সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিতই হল কলকাতা। অতীতে স্কোর বোর্ডে ভুল, আলো নিয়ে যাওয়া, পিচ বিতর্ক কত কী অতীতে তো লজ্জায় মুখ ঢেকেছিল ইডেন। আবার সঠিক প্রশাসনে গরিমা ফিরবেও পেয়েছে। এবারও কী গরিমা ফিরবে? পথ কে দেখাবেন সেটাই বড় ব্যাপার।
২০২০ সালে আহমেদাবাদে (বাঁদিকে) ও ২০২৪ সালে চেন্নাইতে (ডানদিকে) অধিনায়কদের ক্যাপ্টেনস মিটিংয়ের ছবি: আইপিএল
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন