ওয়াশিংটন: রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় চালু এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি চাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমেরিকার একজন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আমেরিকা ও রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে মস্কোর সঙ্গে বড় পরিসরে আলোচনা শুরু করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। তার অংশ হিসেবে আগামী দিনগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা যেন রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে যেসব নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যায় সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করতে বিদেশ দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সে অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক দপ্তরগুলো নির্বাচিত রাশিয়ার নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে যাওয়া সম্ভাব্য রুশ নাগরিকদের তালিকায় দেশটির কিছু ‘অলিগার্ক’ও রয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারা প্রায়ই এ ধরনের কাগজপত্র তৈরি করেন। তবে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের এ রকম একটি অনুরোধ ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সদিচ্ছাকে তুলে ধরছে।
এই নিষেধাজ্ঞা মুক্তির বিনিময়ে ওয়াশিংটন সুনির্দিষ্টভাবে মস্কোর কাছ থেকে কী চাইতে পারে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। হোয়াইট হাউস, আমেরিকার বিদেশ দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রক এবং ওয়াশিংটনে রুশ দূতাবাসের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কেউ তাৎক্ষণিকভাবে তাতে সাড়া দেননি।
আমেরিকার অর্থমন্ত্রী স্টিভ বেসেন্ট গত মাসে ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে বলেন, রাশিয়া অর্থনৈতিক (নিষেধাজ্ঞা) মুক্তি পেতে পারে। এটা নির্ভর করছে আগামী সপ্তাহগুলোতে সমঝোতার ক্ষেত্রে দেশটি কী মনোভাব দেখাচ্ছে তার ওপর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ‘কিছু ক্ষেত্রে’ প্রত্যাহার করা হতে পারে।
এ বিষয়ে আমেরিকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সাবেক প্রধান জন স্মিথ বলেছেন, ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারেন, যাতে তাঁর প্রশাসন রাশিয়ার ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।
রাশিয়া বলছে, তারা আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী। গত সপ্তাহে ক্রেমলিন বলে, রাশিয়ার প্রচুর বিরল খনিজ পদার্থের মজুদ রয়েছে এবং সেগুলোর অনুসন্ধান থেকে শুরু করে উত্তোলনসহ অন্যান্য পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য চুক্তি করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। ট্রাম্প ইউক্রেনের সঙ্গে খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। ইউক্রেনে বিপুল পরিমাণ লিথিয়াম ও অন্যান্য বিরল খনিজ পদার্থ রয়েছে। আমেরিকা এত দিন ইউক্রেনকে যে শত শত বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে, তার বিনিময়ে ওই চুক্তি করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন