ওয়াশিংটন: রঞ্জনী শ্রীনিবাসের পর ট্রাম্প প্রশাসনের কোপে আরও এক ভারতীয় গবেষক। ইহুদি বিরোধী প্রচার এবং প্যালেস্তাইনের জঙ্গিগোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ বদর খান সুরির বিরুদ্ধে। গত ১৫ মার্চ ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির গোয়েন্দারা। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। গ্রিন কার্ডধারী সুরির ভিসা বাতিল করে শীঘ্রই ভারতে ফেরত পাঠানো হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, সুরি জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় নিয়ে পড়াশোনা করতেন। ক্যাম্পাসে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হামাসের হয়ে প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইহুদি বিদ্বেষও প্রচার ছড়াতেন। আমাদের জানতে পেরেছি, হামাসের অন্যতম পরামর্শদাতা আহমেদ ইউসুফ সঙ্গে যোগ রয়েছে সুরির। সন্ত্রাসবাদী যোগ সন্দেহে আইএনএ ধারার ২৩৭(এ)(৪)(সি)(আই)-এর অধীনে সুরিকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, হামাসের ওই পরামর্শদাতা ভারতীয় ছাত্রের শ্বশুর বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তা।
দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রাক্তনী হলেন সুরি। সেখান থেকে পিএইচডি করেছেন। এরপর জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট-ডক্টরেট করছিলেন। সুরির স্ত্রী মাফাজ আহমেদ ইউসুফ প্যালেস্তাইন বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। সূত্রে খবর, ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংগঠনের দূত হিসেবে গাজায় যান সুরি। তখনই মাফাজের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তাঁর স্ত্রীও তখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলির হয়ে দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকে দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি দিল্লিতে মাফাজ ও সুরি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর দু’জনেই আমেরিকা পাড়ি দেন। ২০১৯ সালে তাঁদের ছেলে আরাফতের জন্ম হয়। সংবাদমাধ্যমের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুরির শ্বশুর আহমেদ ইউসুফ গাজার হামাস সরকারের প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। পাশাপাশি গাজায় সঙ্কট নিরসনে হাউস অব উইজডম ইনস্টিটিউটের প্রধানও হয়েছিলেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন