কলকাতা: নেতাজি ইন্ডোরের মহাসমাবেশ থেকে গত বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ঢুকিয়ে বাংলা দখলের পরিকল্পনা নিয়েছে। ভোটার তালিকার ‘ভূত’ ধরতে গোটা সংগঠনকে ময়দানে নামতেও বলেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। তার এক সপ্তাহ পরে বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে বৈঠকের শেষে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার কার্ডে ‘ইউনিক আইডি’ চালুর দাবি জানাল শাসকদল। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নেতৃত্বে তৃণমূলের ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনগুপ্ত। কমিশন থেকে বেরিয়ে ফিরহাদ বলেন, ‘বাংলার ভোটকে প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। একই এপিক নম্বরে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা চলবে না। আধার কার্ড, পাসপোর্ট যেমন থাকে তেমন ভাবে ভোটার কার্ডেও ইউনিক আইডি চালু করতে হবে।’
তৃণমূলের অভিযোগ, আগে ভোটার কার্ডে বিধানসভা এবং লোকসভা কেন্দ্রের কথা উল্লেখ থাকত। কিন্তু নতুন প্রক্রিয়ায় তা থাকছে না। এতেই চক্রান্ত রয়েছে বলে মনে করছে বাংলার শাসকদল। মমতা অভিযোগ তোলার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন বলেছিল, ‘একেই এপিক নম্বর নতুন কথা নয়। কিন্তু সেই নম্বর কখনওই একই রাজ্যে নয়। ফলে গোলমাল হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’ পাল্টা তৃণমূলের চন্দ্রিমা বলেন, ‘ও সব কথার কোনও মানে নেই। কমিশনের ২৮ নম্বর রুলে যা রয়েছে, তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। আমরা বলেছি কমিশনকে আইন মেনে যা করার করতে হবে।’ তৃণমূল নেতাদের সাফ কথা, ‘বিডিও-কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করতে না পারায় এটা নয়া চক্রান্ত শুরু করেছে বিজেপি।’ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম ঢুকিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গে মানুষরাই ভোট দেবে। অনুপ্রবেশমূলক কথা বলে ভোট ভুল করার চেষ্টা করছে বিজেপি।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন