আইডিএসও-র চার নিগৃহীত নেত্রী। তাঁদের মুখে উঠে আসে সেদিন মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার লকআপে নৃশংস অত্যাচারের বর্ণনা। নিগৃহীতা সুপ্রীতা সোরেন জানান, ৩ মার্চ তাঁদের যে কর্মসূচি ছিল, তা মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। আর এই কর্মসূচি পালন করতে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। কোনও রাস্তা অবরোধ বা এমন কোনও কাজ করা হয়নি যাতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কোনও ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পৌঁছনো মাত্রই বিশাল বাহিনী তাঁদের তুলে নিয়ে যান। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। সেখানে ছাত্রকর্মীদের নামিয়ে চার জন ছাত্রীকে পাটনা বাজারের মহিলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে এও জানান, পুলিশ ভ্যান থেকে নামানোর পর নিয়ে যাওয়া হয় সিসিটিভি আওতার বাইরে। সেখানে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়। হাজার প্রতিবাদে মেয়ের মাঝখানে চার জন মুখ থুবড়ে পড়েন তাঁরা। ওই অবস্থাতেই এসি-সহ পাঁচ জন পুলিশ কর্মী মিলে চড়াও হয় এআইডিএসও-র নেত্রীদের ওপর। চড়থাপ্পড় এলোপাথাড়ি লাথি, কিল, চড় ঘুষি। এমনকী ওসি কোমরের বেল্ট খুলে মারেন। একই অভিযোগ বর্ণালী নায়ক, রানুশ্রী বেজেরের। যদিও আরও অভিযোগ, রাজ্যের দুটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্টের পরও ইনজুরি রিপোর্ট হাতে পাননি নিগৃহীতারা। এদিকে এই ঘটনায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার।
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: কোতোয়ালি থানায় এআইডিএসও নেত্রীদের ওপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনার জল গড়াল আদালতে। এবার এই ঘটনায় মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। প্রসঙ্গত, যাদবপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গিয়েছিলেন এআইডিএসও-র চার নেত্রী। এরপর তাঁদের ওপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার মহিলা ওসি-র বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা ও থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবিতে মামলার আবেদন জানান মামলাকারীরা। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বৃহস্পতিবার এই মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন। কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন