নয়াদিল্লি: ২০২৪ সালের বাতাসের গুণমান নিয়ে সুইস সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’-এর সেই রিপোর্ট সাফ জানাচ্ছে, দূষিত দেশের তালিকায় ভারত এখন বিশ্বে পঞ্চম। পৃথিবীর দূষিততম ২০ শহরের মধ্যে ১৩টিই এদেশে। সেই তালিকার অন্যতম দিল্লি। আর কোনও দেশের রাজধানী ঠাঁই পায়নি সবথেকে বেশি দূষিত ২০ শহরের তালিকায়। এক বা দু’বছর নয়, টানা ছ’বছর এই ‘রেকর্ড’ ধরে রেখেছে দিল্লি।
রিপোর্টের দাবি, দূষণের ফলে ভারতীয়দের গড় আয়ু কমেছে ৫ বছর ২ মাস। তবে দিল্লি নয়, আগের বছরের মতোই গোটা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে অসম ও মেঘালয়ের সীমানার বার্নিহাট। স্টিল, সিমেন্টের মতো ভারীশিল্পের কারখানা রয়েছে সেখানে। মূলত শিল্পায়নের কারণে রাজধানীকেও ‘টক্কর’ দিয়েছে উত্তর-পূর্বের এই শহর।
দূষণ তালিকায় ঠিক দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। ২০২৪ সালে ভারতের রাজধানীর বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার (পিএম ২.৫) মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ১০৮.৩ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছেছে। ২০২৩-এ যা ছিল ১০২.৪।
কী এই পিএম ২.৫? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাতাসে ভাসমান ২.৫ মাইক্রনের থেকে ছোট বায়ুদূষণকারী কণা। ফুসফুস থেকে যা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দেহে। ফলে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা, হৃদরোগ, এমনকী ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
২০২৩-এর হিসেবে দূষিত দেশের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল ভারত। এবার রয়েছে পঞ্চমে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার চাদ। তারপর কঙ্গো, বাংলাদেশ, পাকিস্তান। গতবারের তুলনায় ভারতে বাতাসে পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে যা প্রতি কিউবিক মিটারে ৫৪.৪ মাইক্রোগ্রাম। এখন তা ৫০.৬ মাইক্রোগ্রাম। যদিও এই মাত্রাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত নিরাপদ গুণমান সূচকের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।
রিপোর্ট বলছে, ভারতের কোনও শহরের বায়ুই স্বাস্থ্যকর নয়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উত্তর ভারতের শহরগুলির। ফরিদাবাদ, লোনি, নয়াদিল্লি, গুরুগ্রাম, গঙ্গানগর, গ্রেটার নয়ডা, মুজফ্ফরনগর রয়েছে তালিকার উপরের দিকে। দূষণের তালিকায় ১৮৪ নম্বরে রয়েছে কলকাতা। ২০২৪ সালের গড় একিউআই ৪৫.৬। যা ২০২৩-এ ছিল ৪৭.৮। দুর্গাপুর, আসানসোল, বারাকপুর, হাওড়া, শিলিগুড়ি, হলদিয়ার নাম রয়েছে তালিকায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন