বেজিং: পূর্ব লাদাখে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তাই আর কাঁকড়ার লড়াই নয়। বরং ‘ড্রাগন ও হাতির’ ব্যালে নাচ দেখুক দুনিয়া। সময়ের দাবি মেনে সেটাই হবে ‘উপযুক্ত পথ’। শুক্রবার এই ভাষাতেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং উই, যা পরোক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছে গোটা বিশ্ব। আমেরিকা-চীন শুল্কযুদ্ধ ও ইউক্রেন সঙ্কটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণে আমূল বদলের ইঙ্গিত আসছে। রীতিমতো ‘ঠান্ডাযুদ্ধে’র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দুই ‘সুপার পাওয়ারে’র মধ্যে। সেই জল্পনা আরও বাড়িয়েছে চীনের বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিবৃতি। বলা হয়েছে, ‘আমেরিকা যুদ্ধ চাইলে বেজিংও প্রস্তুত রয়েছে। শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়েই হোক বা অন্য যে কোনও যুদ্ধ—শেষ দেখে ছাড়বে চীন।’ এই প্রেক্ষিতেই বিরোধিতা ভুলে নয়াদিল্লির প্রতি বেজিংয়ের এই বন্ধুত্বের বার্তা নিশ্চিতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এবিষয়ে ভারত সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে একদিন আগে দু’দেশের সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। এবার একধাপ এগিয়ে চীনা বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘গ্লোবাল সাউথ’ গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চীন একযোগে ‘আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতি’র বিরোধিতায় নেতৃত্ব দিতে পারে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, নাম না করে আমেরিকার সঙ্গে ছায়াযুদ্ধে ভারতকে পাশে চাইছে চিন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন