বীরভূম: রাজ্যজুড়ে খাবার দোকানগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা। বিভিন্ন দিন অভিযোগ আসছিল এবার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হল। খাবারে রং মেশানো এবং খারাপ খাবার পরিবেশনের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে উচিত শিক্ষা দিলেন বীরভূম জেলা ফুড সেফটি ইনস্পেক্টিং অফিসার ড. প্রসেনজিৎ বটব্যাল আহমদপুরের বিভিন্ন খাবারের দোকান-হোটেলে খাদ্য কেমিক্যালযুক্ত রং ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগ পেয়ে খতিয়ে দেখতে যান ফুড সেফটি অফিসার।
দোকানে মিষ্টি বা খাবার যেখানে তৈরি করা হয় সেই রান্না ঘরের পরিবেশ দেখে আশ্চর্য হন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা। তারা দেখেন নিয়ম মানা হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রেই। অনুনয় বিনয় এবং ভালো করে বুঝিয়ে যখন কয়েকটি দোকানের মালিককে বোঝানো সম্ভব হচ্ছে না তখন ফুড সেফটি ইন্সপেক্টিং অফিসার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির বিধানের কথা বলেন। একটি হোটেলে এবং মিষ্টির দোকানের মালিককে বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি আধিকারিকের কথা না মেনে তর্ক করতে থাকায় আধিকারিক দোকানদারকে বলেন, 'খাবারে যা রং মেশান, এখুনি তা বের করুন'। তার পরেও হোটেলের খাবারে রং মেশানোর কথা অস্বীকার করায় দোকানে থাকা ভেজাল এবং বাসি খবার ফেলে দেওয়া হয়। ক্রেতাদের 'অখাদ্য' খাবার পরিবেশনের জন্য এবং ক্যামিকেল যুক্ত রং খাবারে মেশানোর অভিযোগে দোকানদারকে কান ধরে ওঠবস করান বলে পাল্টা অভিযোগ সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে। বীরভূম জেলার আহমেদপুরে এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে।
বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার তদন্তে নেমে সরকারি আধিকারিকরা লক্ষ্য করেন, বেশ কিছু দোকানে কেমিক্যালযুক্ত খারাপ মানের রং ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি বিরিয়ানির দোকানে সংরক্ষণ করে রাখা বাসি মাংস ফেলে দেন তাঁরা। পাশাপাশি একটি মিষ্টির দোকানের বাসি মিষ্টি, সিঙ্গারা ডাস্টবিনে ফেলে দেন তাঁরা।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা জানান, খাবারে কেমিক্যালযুক্ত রং ব্যবহার করে আমরা ভুল করেছিলাম। তাই তাঁদের কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে। জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যাল বলেন, 'উপযুক্ত লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করে, খাদ্য সুরক্ষা লাটে তুলে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যথেচ্ছভাবে খাবার জন্য অনুপযোগী কেমিক্যালযুক্ত রঙের ব্যবহার করা হচ্ছে। বারণ করার পরেও যখন দু'জন খাদ্য ব্যবসায়ী বেঁকে বসেন এবং জানান, খাবারে এই রঙের ব্যবহার করতেই হবে, গ্রাহককে তাঁরা ফেরাতে পারবেন না। তখন ঘটনাস্থলেই তাঁদের শাস্তি দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।'
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন