বর্ডারলাইনে এসে গিয়েছে সুগার? ঠেকাবেন কী করে? পড়ুন বিস্তারিত - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

বর্ডারলাইনে এসে গিয়েছে সুগার? ঠেকাবেন কী করে? পড়ুন বিস্তারিত




প্রত্যেক মানুষের রক্তে নির্দিষ্ট মাত্রায় শর্করা থাকে। সেটা স্বাভাবিক লেভেল। রক্তে সেই গ্লুকোজের মাত্রা যদি স্বাভাবিক লেভেল অতিক্রম করে, সেক্ষেত্রে তাকে বলা হয় ডায়াবেটিস। স্বাভাবিক মাত্রা আর ডায়াবেটিস শুরুর মাত্রার মাঝামাঝি অবস্থানে যদি শর্করার লেভেল থাকে, তাকে বলা হয় প্রি ডায়াবেটিস। এক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ের থেকে বেশি হয়। কিন্তু ডায়াবেটিসের নির্ধারিত মাত্রায় পৌঁছয় না। একে বর্ডার লাইন সুগারও বলা হয়।
 


খাওয়ার আগে অর্থাৎ খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ ৮০-১০০ (মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার) থাকা স্বাভাবিক। ১০১-১২৫ (মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার) হল প্রি ডায়াবেটিস। আর ১২৬+ হল ডায়াবেটিস। খাওয়ার পর স্বাভাবিক মাত্রা হল ১৭০-২০০ (মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার)। ১৯০-২৩০ হল প্রি ডায়াবেটিস। আর ২২০-৩০০ হল ডায়াবেটিস।


সব বয়সেই হতে পারে। এমনকী বাচ্চারাও প্রি ডায়াবেটিস পর্যায় পৌঁছতে পারে। তবে সেটির সংখ্যা অনেক কম।

প্রি ডায়াবেটিস পর্যায় থেকে তিনটি বিষয় হতে পারে। প্রথমত, প্রি ডায়াবেটিস পর্যায়তেই থেকে গেল সারাজীবন। দ্বিতীয়ত, ডায়াবেটিস হতে পারে। তৃতীয়ত, স্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছতে পারে।


 

কেউ কীভাবে বুঝবেন,  তিনি প্রি ডায়াবেটিস পর্যায়ে রয়েছেন?  আলাদা করে কোনও উপসর্গ বা লক্ষণ নেই। ব্লাড টেস্ট করালে, তার রিপোর্ট দেখে বোঝা যায় আপনার শর্করার লেভেল স্বাভাবিক আছে নাকি নেই। 

আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন, প্রি ডায়াবেটিস হল ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অ্যালার্ম। বর্তমানে ভারতবর্ষের বহু মানুষ এই পর্যায়ে রয়েছেন। এখন থেকেই যদি সতর্ক হওয়া যায়, তাহলে আপনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। আর তা না হলে ডায়াবেটিসের চিন্তা দূর করা সম্ভব নয়। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জানেন না তিনি প্রি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বছরে অন্তত একবার চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ব্লাড টেস্ট করানো উচিত। 


 


যাদের ওবেসিটির সমস্যা রয়েছে। বয়স ৪০- এর বেশি। পরিবারে কারও ডায়াবেটিস হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, তাঁদের ঝুঁকি তুলনায় অনেক বেশি। 

প্রি ডায়াবেটিস পরবর্তী সময়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হয়। এই পর্যায়ে থাকলে পারিপার্শ্বিক বেশ কতগুলি সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমন উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির মাত্রার পরিমাণ বেশি, থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে। এমনকী, স্ট্রোক, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। 


 

কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন প্রি ডায়াবেটিস? 

প্রি ডায়াবেটিস হয় মূলত জীবনযাত্রার নানা ত্রুটির কারণে। তাই জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনাই প্রি ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান  চিকিৎসা। ঘুম খুব জরুরি। অতিরিক্ত চিন্তা করাও কমাতে হবে। সুষম খাবার খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। প্রোটিন জাতীয় খাবার, ফল বেশি করে খান। অতিরিক্ত মাত্রায় মিষ্টি, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলাই ভালো। এছাড়াও ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত।অত্যাধিক মাত্রায় ওজনের কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রি ডায়াবেটিস স্টেজে থাকলে, তৎক্ষণাৎ ওজন কমানোর উপর জোর দেওয়া দরকার। নইলে পরে সমস্যা বাড়ে। প্রতিদিন নিয়মমাফিক অন্তত আধঘণ্টা শরীরচর্চা করলেও উপকার হয়। হাঁটাও অত্যন্ত উপকারী। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন