নয়াদিল্লি: ভুয়ো? ভূতুড়ে? নাকি শুধুই ‘ডুপ্লিকেট’? দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেওয়া এপিক (ভোটার কার্ড) বিতর্ক নিয়ে প্রবল চাপে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন, কয়েকদিনের মধ্যে সেটাই বিরোধী সব দলের ইস্যু। এতটা আন্দাজও করতে পারেনি কমিশন বা মোদি সরকার। দিন যত যাচ্ছে, ততই প্রায় কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরনোর মতো পরিস্থিতি। আর তাই তড়িঘড়ি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকল কেন্দ্র।
কমিশনের দপ্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, আধার কর্তৃপক্ষ এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে হবে এই বৈঠক। জল্পনা তুঙ্গে উঠছে, এতদিন যা ছিল ঐচ্ছিক, অর্থাৎ আধার এবং সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের মধ্যে সংযোগকরণ, সেটাই কি আবশ্যিক করার কথা ভাবা হচ্ছে? এই প্রশ্ন ও চর্চার কারণ, মঙ্গলবারের বৈঠকে হাজির হতে বলা হয়েছে আইন মন্ত্রককেও। আধার অথবা ভোটার কার্ড, দু’টি ক্ষেত্রেই আইনমন্ত্রকের প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই। তাহলে কেন? ১৯৫১ সালের রিপ্রেন্টেজশন অব পিপলস অ্যাক্টে কোনও বদল আনা হবে? সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু নির্দেশ দিয়ে রেখেছে, আধারকে সামাজিক প্রকল্প ছাড়া অন্য কিছুতে ব্যবহার করা যাবে না। তাই প্যানের সঙ্গে লিঙ্ক চলতে পারে। কিন্তু আধার কখনওই নাগরিকত্বের পরিচায়ক নয়। অথচ, এপিক নাগরিকত্বের পরিচয় বহন করে। এর সঙ্গে আধারের লিঙ্ক আবশ্যিক করতে গেলে আইন সংশোধন প্রয়োজন।
সংসদের বাজেট অধিবেশনে দুই কক্ষে প্রতিদিন ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ড ইস্যুতে সরব হচ্ছে সম্মিলিত বিরোধীরা। ব্যাকফুটে মোদি সরকার। আর অন্যদিকে, বিভিন্ন সময় ইভিএম কারচুপি থেকে ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া এবং তারপর ভূতুড়ে ভোটারের অভিযোগ—প্রতি ক্ষেত্রেই প্রথমে ‘সব ঠিক হ্যায়’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কমিশন এই প্রথম যথেষ্ট বিব্রত। কারণ অনিয়ম যে প্রবল আকারে হয়েছে, সেটা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে তারা। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত, প্রত্যেকের কাছে মতামত, সুপারিশ, পরামর্শ ও প্রস্তাব চাওয়া এবং ৩০ এপ্রিল সময়সীমা ধার্য করা।
এসবের পর এবার হঠাৎ নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রক ও সংস্থাকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। শনিবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ, মঙ্গলবার দিল্লির নির্বাচন কমিশনে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে হাজির থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, আইন মন্ত্রক এবং ইউআইডিএআই অর্থাৎ আধার পরিচালন কর্তৃপক্ষ। ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন দ্রুত একটি মুখরক্ষার ফর্মুলা সামনে এনে অস্বস্তি ঢাকতে চাইছে। লক্ষ্য হল, এই ক্রমবর্ধমান চাপ থেকে বেরিয়ে আসা। এখনও পর্যন্ত এই ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের থেকে প্রস্তাব ও সুপারিশ আহ্বান করার পর, সেইসব রিপোর্ট জমা পড়া অনেক আগেই পরবর্তী পদক্ষেপ করে রাখতে চাইছে কমিশন। আধারের সঙ্গে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের সংযুক্তির ইস্যুতে কেন এই বৈঠক ডাকা হল? সেটা নিয়েই আগ্রহ তাই তুঙ্গে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন