তমলুক: পঞ্চায়েত সদস্যের সই জাল করে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য প্রধানের সুপারিশ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়া পঞ্চায়েতে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একসময় ওই প্রধানেরই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রধানের ইস্যু করা সার্টিফিকেট তিনিই লিখে দিতেন। কিন্তু, একটি গৃহস্থের বাড়িতে সোনা চুরির ঘটনায় পঞ্চায়েত থেকে গুনিন আনার ছাড়পত্র দিয়ে প্রধানের কোপে পড়েছিলেন। তারপর প্রধান তাঁকে ওই কাজ থেকে সরিয়ে দেন। সেই ব্যক্তিই বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যের সই জাল করে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ। ছ’ ঘণ্টা তাঁকে পঞ্চায়েত অফিসে আটকে রাখা হয়। রেয়াপাড়া ফাঁড়িতে খবর দেওয়ার পর পুলিসও পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছয়। শেষমেশ প্রধানের পায়ে ধরে এবং এধরনের কাজ ভবিষ্যতে না করার মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান।
জানা গিয়েছে, বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুলিয়া দক্ষিণ বুথের নির্বাচিত সদস্য হলেন বিজেপির শিবু কামিল্যা। ওই বুথের বাসিন্দা প্রদীপ পণ্ডা ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য বেশ কয়েকবার পঞ্চায়েত অফিসে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। ২০১৩ সালে তাঁর মা মারা গিয়েছেন। কিন্তু, ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ না করেই ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য দৌড়ঝাঁপ করায় পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রধান কেউ তা দেওয়ার উদ্যোগ নেননি। এই অবস্থায় একদা প্রধানের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি তাঁকে মেম্বারের সই জাল করে প্রধানের কাছে সুপারিশ চিঠি পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেইমতো শিবু কামিল্যার সই জাল করে পঞ্চায়েতের প্যাডে ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের জন্য চিঠি করা হয়। সেই চিঠিতে লাগোয়া অন্য একটি বুথের সিল ব্যবহার করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন