কলকাতা: জেলে বসেও চলছে তাঁর কেরামতি!
বন্দি থাকা অবস্থায় ফোন করে এক জমি মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
উঠেছে সন্দেশখালির এক সময়ের ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে। রবীন
মণ্ডল নামে সরবেড়িয়া এলাকার এক বাসিন্দা তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের
করেছেন ন্যাজাট থানায় এবং ইডির কাছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলের মধ্যে কীভাবে
শাহজাহান মোবাইল ফোন পেলেন, উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
ধৃত
এই তৃণমূল নেতা জেলে বসেই ঘনিষ্ঠদের ফোন করে ব্যবসা চালানোর পরামর্শ
দিচ্ছেন বলে ইডি আগেই অভিযোগ করেছিল। রবীনবাবুর দাবি, গত ১৫ মার্চ তাঁর
কাছে আসে শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ মফিজুল মোল্লা। মফিজুল তাঁকে বলে, ‘ফোনে ভাই
রয়েছে।’ ফোন ধরতেই তাঁকে বলা হয়, ‘আমি শেখ শাহজাহান বলছি। তোদের খুব বাড়
বেড়েছে। আমার নামে অনেক অভিযোগ করেছিস। সারা জীবন আমি জেলে থাকব না। ছাড়া
পেয়ে বোম মারব। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করব। আমার মতো হাজার শেখ শাহজাহান এলাকায়
ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোদের ব্যবস্থা করবে।’
গত
দু’মাসে তিনবার শাহজাহান জেল থেকে ফোন করে তাঁদের পরিবারকে প্রাণে মারার
হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগ, তাঁদের পরিবারের জমি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে
কেড়ে নেয় শাহজাহান। সেখানে নিজের নামে মার্কেট তৈরি করেন। মঙ্গলবার
রবীনবাবু ইডি অফিসে যান। সেখানে লিখিত অভিযোগে জানান, শাহজাহানের বিরুদ্ধে
তিনি সাক্ষী দিয়েছেন। তাই তাঁকে ভয় দেখাচ্ছে শাহজাহানের অনুগামী মফিজুল
মোল্লা, মুসলেম শেখ ও শাহজাহানের স্ত্রী। এরপর ন্যাজাট থানায়ও অভিযোগ করেন
তিনি। ফোনে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেশখালিতেও মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য
তৈরি হয়েছে।
বুধবার ব্যাঙ্কশালে ইডির বিশেষ
আদালতে দ্বিতীয়বার জামিনের আবেদন করেন শাহাজাহান। ইডি জামিনের আবেদনের
বিরোধিতা করে। ২০১৯ সালে ভাঙ্গিপাড়ায় তিনজনকে খুনের ঘটনার মামলায় নিম্ন
আদালত শাহজাহানের বিরুদ্ধে ‘কগনিজেন্স’ নিয়েছিল কি না, তার তথ্য তলব করেছে
কলকাতা হাইকোর্ট। মামলাকারী অথবা রাজ্যকে এই তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার
নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন