কলকাতা: উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমেস্টারের ফলপ্রকাশের আগেই দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করতে হবে। সংসদ জানিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় সেমেস্টারের পঠন-পাঠন শুরু করতে হবে, যাতে কম সময়ের মধ্যেই পুরো পাঠক্রম শেষ করা যায়। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষামহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন শিক্ষকের মতে, দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর সময় নির্ধারণে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। ফলপ্রকাশের আগে ক্লাস শুরু করানো শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যারা দ্বিতীয় সেমেস্টারে ভালো ফল করতে পারেনি। তাদের পুনরায় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য একাদশ শ্রেণিতে ফেরানোর নিয়ম অনেকের কাছেই অনৈতিক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে হচ্ছে।
অনেকে মনে করছেন, ফলপ্রকাশের পরই নতুন শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু হওয়া উচিত। দ্রুত ক্লাস চালু হলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাবে না, যা তাদের শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এই তাড়াহুড়ো শিক্ষার গুণগত মানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অন্যদিকে, কিছু শিক্ষাবিদ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একাদশ শ্রেণির ফলাফল যেহেতু স্কুলের নিজস্ব মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল, তাই দ্রুত ফলপ্রকাশ করলে দ্বাদশ বেশি সময় পাওয়া যাবে। এতে পরীক্ষার চাপ কমবে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
শিক্ষা সংসদের এক আধিকারিক জানান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। দ্রুত ক্লাস শুরু হলে তারা পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে। তবে, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হলে তা শিক্ষার্থীদের উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, ফলপ্রকাশের পর ক্লাস শুরুর ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো উচিত, যাতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ না বাড়ে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন