ভারতের প্রযুক্তিগত নবজাগরণ বিকশিত ভারতের যাত্রাকে আরও প্রজ্বলিত করছে - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

ভারতের প্রযুক্তিগত নবজাগরণ বিকশিত ভারতের যাত্রাকে আরও প্রজ্বলিত করছে

 

সংবাদমাধ্যমে কলম ধরলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

মহারাষ্ট্রের বারামতিতে, একজন ক্ষুদ্র কৃষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই) ব্যবহার করে কফি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। আমরা সেখানে অসাধারণ কিছু কাজ দেখতে পাচ্ছি - সার্নের ব্যবহার কম খরচে, উন্নতভাবে জল ব্যবহারের ক্ষমতা এবং উচ্চ ফলন, সবকিছুই এ আই মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।

এটি ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত বিপ্লবের এক ঝলক মাত্র। প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন এখন আর গবেষণাগারের সীমাবদ্ধ নয় বরং সাধারণ নাগরিকের জীবনকে রূপান্তরিত করছে। অনেক দিক থেকে, এই কৃষকের গল্পটি আরও বৃহত্তর রূপান্তরের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ যা ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের পথে আমাদের যাত্রার অন্যতম পরিচায়ক।

ডিজিটাল ডাটা রত্না

ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের উপর জোর দিয়ে ভারত নিজের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠন করছে। কয়েক দশক ধরে, ভারত সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউনাইটেড কিংডম-ও পর্যন্ত তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে ভারতীয় ট্যালেন্টের ওপর নির্ভরশীল।

দেশে নির্মাণাধীন পাঁচটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভূমিকাকে জোরদার করছে। ইলেকট্রনিক্স পণ্য বর্তমানে দেশের রপ্তানিমুখী শীর্ষস্থানীয় তিনটি পণ্যের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এই বছর ভারতের প্রথম স্বদেশে নির্মিত ইলেকট্রনিক্স চিপ চালু করার মাধ্যমে শীঘ্রই আমরা একটি বড় মাইলফলক অর্জন করব।

এটাই এআই তৈরি কম্পিট, সেটা এবং উদ্ভাবন

সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রনিক্স ভারতের প্রযুক্তি বিপ্লবের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। ভারত বর্তমানে এ আই সাফল্যের কেন্দ্রে উন্নীত হচ্ছে।

এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল ভারতের ৭০ লক্ষ কর্মীর গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জি পি ইউ) সহ কমপিউট সুবিধা। এটি ৫০০ টাকা প্রতি ঘণ্টার কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। এই উদ্যোগটি গবেষক, স্টার্টআপ, শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং অন্যান্য অংশীদারদের জন্য অত্যাধুনিক গবেষণার সুবিধা প্রদান করছে। এই উদ্যোগটি এআই ভিত্তিক এক ব্যবস্থা যা মধ্যে ভারতীয় মৌলিক মডেলিংও রয়েছে।

ভারত নাগরিকদের জন্য উচ্চ-মানের ডেটার উপর এ আই মডেলিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বৃহৎ আকারের ব্যক্তিগত নয় এমন ডেটাবেসও তৈরি করেছে। এই উদ্যোগটি খাদ্যশস্য শস্যজাতীয় নতুন কিছু কাজে সাহায্য করবে। এ আই ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য এবং সুসংহত করে তুলবে। এই ডেটাবেসগুলি কৃষি, আবহাওয়া এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ আই -চালিত সমাধানগুলিকে শক্তিশালী করবে।

সরকার ভারতের নিজস্ব মৌলিক মডেলিং উন্নয়নে সহায়তা করছে, যার মধ্যে রয়েছে বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম)। এবং ভারতীয় চাহিদা অনুসারে সমস্যা চিহ্নিত করাই এই সমাধান। এআই গবেষণাকে উৎসাহিত করার জন্য, একাধিক উৎকর্ষ কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।

ভারতের ডিপিআইএ, ডিজিটাল উদ্ভাবনের একটি নীলনকশা

ডিপিআই-তে ভারতের অগ্রণী ভূমিকা বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল চালিকাশক্তির উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছে। কর্পোরেট মডেলের বিপরীতে, ভারতের উদ্ভাবনমূলক সরকার-বেসরকারি পদ্ধতি আধার, ইউপিআই এবং ওএনডিসি-র মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলি ডিপিআই-এর উপরে ব্যবহারের ক্ষমতাকে (জি সি সি) যুক্ত করছে। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী সংযোগ ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য একটি পছন্দসই গন্তব্য হিসেবে ভারতকে অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। তবে, এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা জন্য শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন ক্রমাগত বিনিয়োগ প্রয়োজন। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এন ই পি) ২০২ অনুযায়ী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করে এ আই, ডেটা এবং সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন অন্তর্ভুক্ত করে চলেছে। শুধু তাই নয় এর সাথে সাথে চাকুরীর জন্য দক্ষতা নিয়ে প্রস্তুত হবে। শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে পরিবর্তনের সময় কমিয়ে আনতে হবে।

এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য বাস্তবসম্মত পদ্ধতি

ভারত যখন ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মী বাহিনী তৈরি করছে, তখন এ আই নীতি কাঠামোকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে। কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো উদ্ভাবনের সুযোগকে নিয়ন্ত্রিত করে। ভারত এসবের বাইরে বেরিয়ে একটি সমন্বয়কে স্বীকৃতি দেয়।

এ আই সম্পর্কিত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করছে। সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে। মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছে। আই আই টি-গুলি-তে এ আই -পরিচালিত পরিকাঠামোর জন্য অর্থ মঞ্জুর করেছে। এ আই যখন বিশ্বব্যাপী শিল্পগুলিকে পুনর্গঠন করে চলেছে, তখন ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তা হল, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো বজায় রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা। নীতি এবং পরিকাঠামোর উভয় স্তরে রূপান্তরের মধ্যে দেশের জনগণের উন্নতি হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন