কলকাতা: গত ১৭৫ বছরের পৃথিবীর উষ্ণতার তথ্য রয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লুএমও) কাছে। সেসব তথ্য ঘেঁটে ডব্লুএমও জানিয়েছে, এই ১৭৫ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালটি ছিল উষ্ণতম। রবিবার ছিল বিশ্ব আবহাওয়া দিবস। তার প্রাকমুহূর্তে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে গ্লোবাল ক্লাইমেট রিপোর্টে। ১৮৫৫ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত সময়কালকে প্রাক শিল্পায়ন যুগ বলে ধরা হয়। ওই সময়ে বিশ্বের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ২০২৪ সালের গড় তাপমাত্রা ১.৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল বলে জানিয়েছে তারা।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফল হিসেবে আরও কিছু উদ্বেগজনক তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। যেমন, গত আট লক্ষ বছরের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্বের মাত্রা সবথেকে বেশি এখন। ভূপৃষ্ঠের পাশাপাশি সমুদ্রের জলের উষ্ণতাও বাড়ছে। গত ৮ বছর ধরে সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধির মাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মেরু এলাকায় বরফ গলার পরিমাণও অনেক বেড়েছে। হিমবাহ দ্রুত গলছে। উপগ্রহ চিত্র নেওয়ার ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এখন দ্বিগুণ হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির মূল কারণ হল পরিবেশ দূষণের জন্য বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো ‘গ্রিন হাউস গ্যাস’ এর পরিমাণ বৃদ্ধি। কয়লা, তেল প্রভৃতি ‘জীবাশ্ম জ্বালানি’র ব্যবহার বাড়ার কারণে গ্রিন হাউস গ্যাসের উপস্থিতি বাড়ছে। সৌরশক্তি বা বায়ুচালিত শক্তির মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে, উষ্ণতা বৃদ্ধি আটকানো যাচ্ছে না। ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি বেশি সময় ধরে থাকার জন্যও উষ্ণতা বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই কারণেই বাড়ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মাপকাঠির মধ্যে আটকে রাখা এখনও সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েক বছর আগে বিশ্ব নেতারা প্যারিস চুক্তিতে এই মাপকাঠি নির্ধারণ করেছিলেন। ডব্লুএমও বলছে, এক বছর এই মাপকাঠি টপকে গিয়েছে তাপমাত্রা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আওতার বাইরে চলে গিয়েছে তাপমাত্রা বৃদ্ধি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল সিলেস্টি সাউলোর কথায়, ‘আমরা যে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছি, এটা তার সতর্কবার্তা।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন