কলকাতা: কোভিড-১৯ মহামারী আমাদের শিখিয়েছে যে মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশ একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। কোনও একটির স্বাস্থ্য খারাপ হলে, তার প্রভাব অন্যগুলোর ওপরও পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে 'ওয়ান হেলথ' ধারণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে, আমাদের চারপাশে নতুন নতুন রোগ দেখা যাচ্ছে, যেগুলোর উৎস পশু, পাখি বা পরিবেশ। শুধু কোভিড-১৯ নয়, বার্ড ফ্লু, ইবোলা, মাঙ্কি পক্সের মতো রোগগুলোও একই সূত্রে গাঁথা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশা ও অন্যান্য রোগ বহনকারী প্রাণীরা তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করছে, যা রোগের বিস্তারকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত আচরণই এর মূল কারণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আগ্রাসী মনোভাবের কারণে বনভূমি ও জলাভূমি হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে বন্যপ্রাণীরা তাদের আবাসস্থল হারিয়ে মানুষের কাছাকাছি আসতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া, মানুষ বিভিন্নভাবে পশুপাখির সংস্পর্শে আসছে, যা জুনেটিক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এসব রোগের প্রতিকারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বাড়ছে, তবে এর সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। মানুষ, পশু বা কৃষিকাজে যেখানেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হোক না কেন, তা অবশ্যই প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, পশুচিকিৎসক বা কৃষিবিজ্ঞানীর পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষক ও পশুপালনকারীরা প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, যা খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
'ওয়ান হেলথ' ধারণা অনুযায়ী, বিশ্বের সকল প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একই সূত্রে বাঁধা। তাই কৃষিবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও পশুচিকিৎসকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সকলের সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন