
ভোপাল: রাতের অন্ধকার চিরে দিচ্ছে বড় টর্চ লাইটের আলো। একটানা দাঁড়িয়ে রয়েছে জেসিবি গাড়িটা। শাবল-গাঁইতি নিয়ে মাটি খুঁড়ছেন কয়েকজন। সঙ্গে মেটাল ডিটেক্টর লাগিয়ে চলছে অনবরত খোঁজ। কীসের? সোনার। মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুরের আসিরগড় দুর্গে রাতের অন্ধকারে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলল সোনার খোঁজ। কেন আচমকা সোনার খোঁজে নামলেন এলাকাবাসী? সৌজন্যে ভিকি কৌশলের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ছাভা’।
সিনেমার পর্দায় বুরহানপুরকে তুলে ধরা হয়েছে সোনার খনি হিসেবে। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, ওই এলাকাতে ঘাঁটি গেড়েছিল মুঘলরা। তারপর ছত্রপতি শম্ভাজি মহারাজের নেতৃত্বে সেখানে আক্রমণ করে সেনাবাহিনী। মনে করা হচ্ছে, ছবির এমন দৃশ্য দেখেই বাসিন্দারা ওই এলাকায় খনন শুরু করেছেন। এই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ওই দুর্গের কাছের জাতীয় সড়কে খননকার্য চলছে। সেখানে থাকা একটি জেসিবি দিয়ে সদ্য দুর্গ সংলগ্ন এলাকার মাটি খোঁড়া হয়। সেই মাটি পড়ে গ্রামবাসী হারুন শেখের জমিতে। জাতীয় সড়কের খননে নিযুক্ত শ্রমিকরা সেই মাটিতে একটি ধাতব মুদ্রা পান বলে দাবি। এরপরই শুরু হয় গুজব। কেউ কেউ দাবি করেন, মুঘল আমলের স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এই তথ্য। তারপরই আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন দুর্গ সংলগ্ন এলাকায়। নিরন্তর চলছে সোনার খোঁজ। দিন ও রাত এক করে সকলে মিলে সোনা খুঁজে চলেছেন।
ঐতিহাসিকরা জানাচ্ছেন, এই এলাকা এককালে মুঘলদের শাসনে ছিল। শম্ভাজি যখন আক্রমণ করেন, সেই সময় অনেকেই তাঁদের মূল্যবান মুদ্রা মাটির নীচে চাপা দিয়ে রাখতেন। আগেও অনেকে এখান থেকে সোনা অথবা রুপোর মুদ্রার হদিশ পেয়েছেন। তবে যেভাবে অবৈজ্ঞানিকভাবে খনন চলছে, তা ‘উদ্বেগজনক’।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন