বিধাননগর: আলো-আঁধারি ফুটপাত। স্ট্রিট লাইটের আলোয় দেখা গেল বালকটিকে, শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে। ‘কী হয়েছে? তোমার সঙ্গে কে এসেছেন?’ ছেলেটির কাছে গিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিসের কর্মী। ছেলেটি চুপ। তার জিভ শুকিয়ে গিয়েছে। শুকনো ঠোঁটে জিভও বুলিয়ে নিল একবার। বোঝা গেল, খিদে পেয়েছে বাচ্চাটির। ‘খাবে কিছু?’ পুলিসের প্রশ্নে ঘাড় নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলে সে। খিদে তার যথেষ্টই পেয়েছিল। কারণ একটু পরে পুলিস জিজ্ঞাসা করে জেনেছে, বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে এসেছে বাচ্চাটি!
ছেলেটিকে প্রথমে দেওয়া হল একটি রোল। তা খাওয়ার পর একটু নড়েচড়ে বসতে পারল। তারপর প্রশ্নের উত্তরে ধীরে ধীরে জানাল বাড়ির ঠিকানা। তারপর খেল একটি চকোলেট। এবার ওর মুখে একটু হাসি। পুলিস বলল, ‘মায়ের মোবাইল নম্বরটি বলো তো খোকা।’ এবার ফোন নম্বরও দিল ছেলেটি। ফোন করে পুলিসকর্মী জানতে পারলেন, মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে পালিয়ে এখানে চলে এসেছে বাচ্চাটি।
রবিবার রাতে এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর গেট এলাকায় বালকটিকের দেখা মেলে। বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা বাচ্চাটিকে ফের বাড়ি ফেরত পাঠিয়েছে পুলিস। মা-বাবার হাত ধরে আনন্দপুরে বাড়ি ফিরেও গিয়েছে সে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলেটির বয়স ১২ বছর। বাড়ি কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকায়। ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে আটটা। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিস কর্মীরা দেখেন, রাস্তার ধারে আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। পুলিসকর্মীরা বুঝতে পারেন, বাচ্চাটি একা। সঙ্গে কেউ নেই। দ্রুত তার কাছে গিয়ে নামধাম, বাবার নাম জিজ্ঞেস করেন। জল খেতে দেন। কিন্তু তখন একটি কথাও বলেনি সে। চেয়ারে তাকে প্রথমে বসানো হয়। পছন্দের খাবারের নাম জানতে চান পুলিসকর্মীরা। রোল খাবে বলে সম্মতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসা হয় গরম গরম রোল। সেটি শেষ করার পর ছেলেটিকে পুলিস বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। পেটে খাবার পড়ায় বাচ্চাটির মুখে তখন কথা ফোটে। নিজের নাম বলে। তারপর জানায় তার বাড়ি আনন্দপুরে। ট্রাফিক পুলিস আনন্দপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু বাচ্চাটি বাড়ির কারও মোবাইল নম্বর তখনও বলেনি। তখন পাশের দোকান থেকে বড় আকারের একটি চকোলেট আনে পুলিস। ছেলেটি সেটি খেয়েই গড়গড় করে বলে দেয় মায়ের মোবাইল নম্বর। পুলিস ফোন করে। ফোন পেয়ে রাতেই এয়ারপোর্টে আসেন মা-বাবা। বাড়ি নিয়ে যান ছেলেকে।
বালকটি আনন্দপুর থেকে কী ভাবে এল এত দূর এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর গেটের কাছে? মা-বাবার দিকে তাকিয়ে অভিমান ভরা মুখে তার উত্তর—‘হেঁটেই এসেছি।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন