কলকাতা: বাংলায় ৫টি ইস্পাত কারখানা তৈরি হতে চলেছে। এই ৫ টি কারখানায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে নবান্নে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে পাওয়া লগ্নির প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়িত করতে পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলায় ৫টি ইস্পাত কারখানার প্রস্তাব এসেছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনও হয়ে গেছে। এরফলে মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে ও ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে। এছাড়াও বাণিজ্য সম্মেলনে পাওয়া প্রস্তাবগুলির মধ্যে একাধিক প্রকল্প সরকার ছাড়পত্র দিয়েছে। সেগুলি শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাণিজ্য সম্মেলনের এক মাসের মধ্যে ১০টি আ্যলুমিনিয়াম পার্কও পরিদর্শন দফতরের ছাড়পত্র পেয়েছে।
রানীগঞ্জে ১টি গ্যাস কর্পোরেশনে ৪২৫.৪১ কোটি টাকা, আসানসোলের কাছে কল্যাণেশ্বরীতে ১টি ইস্পাত কারখানায় ১৭০ কোটি টাকা, আলিপুরে ১টি নির্মাণ শিল্পে ৬০১ কোটি টাকা, দুর্গাপুরে ১টি সিমেন্ট কারখানায় ১৪৯০.৮৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়াও দুর্গাপুরে ১টি সংস্থার ৪৯৫.৫৫ কোটি টাকা, হলদিতে ১টি সিমেন্ট উৎপাদনে শিল্পে ৩০০ কোটি টাকা, হাওড়ার শংকরাইলে ১টি সিমেন্ট কারখানায় ৩০০ কোটি টাকা, মুর্শিদাবাদে আবাসন শিল্পে ৫৭০ কোটি টাকা, পুরুলিয়ায় ইস্পাত কারখানায় ১৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবেও ছাড়পত্র দিয়েছে সরকার। শালবনিতে টিস্যু পেপার তৈরির শিল্পে ১৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজও সম্পূর্ণ। অশোকনগরে তেল উত্তোলন প্রকল্পের জন্য ওএনজিসিকে ১ টাকায় জমি ও মাইনিং লাইসেন্স দিয়েছে সরকার।
বীরভূমের দেউচা-পাচামি কয়লা খনির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে যাঁরা জমি দিতে রাজী হবেন তাঁদের চাকরি, আর্থিক সাহায্য সহ ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ দেওয়া হবে। এখন যাঁরা জমি দিয়েছেন তাঁদের প্রায় এক হাজার জনকে হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছে। কয়লা উত্তোলন শুরু হলে স্থানীয় ছেলেমেয়েরাই চাকরি পাবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি জমি দাতাদের কৃতজ্ঞতা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন