মিরাট: স্ত্রীর জন্মদিনে চমক দিতে বিদেশ থেকে কিনেছিলেন দামি উপহার। কিন্তু বাড়িতে ফিরে খুন হতে হবে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি মার্চেন্ট নেভির ২৯ বছরের তরুণ অফিসার। প্রেমিকের সাহায্যে তাঁকে খুন করল স্ত্রী। নিহত মার্চেন্ট নেভি অফিসারের নাম সৌরভ রাজপুত। তিনি উত্তরপ্রদেশের মিরাটের ইন্দিরা নগরের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, প্রমাণ লোপাট করতে খুনের পর সৌরভের দেহ অন্তত ১৫ টুকরো করে তাঁর স্ত্রী ও প্রেমিক। দেহাংশগুলি একটি ড্রামে ভরে সিমেন্ট ঢেলে সিল করে দেয় তারা। তারপর মানালি বেড়াতে চলে যায় দু’জনে। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। সৌরভকে খুনের জন্য স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও তার প্রেমিক সাহিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
গত ৪ মার্চ সৌরভ বাড়ি ফেরার পর নিঁখোজ হয়ে যান। তাঁর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তদন্তে নামে পুলিস। প্রথম থেকেই মুসকানের কথায় অসঙ্গতি পান তদন্তকারীরা। পুলিস সৌরভের বাড়িতে তল্লাশির সময় একটি সিমেন্ট ভরা ড্রাম পায়। সেই ড্রাম ভাঙতেই উদ্ধার হয় দেহের একাধিক টুকরো। দেহ সৌরভের বলে শনাক্ত করে তাঁর পরিবার। পুলিস জানিয়েছে, দিন ১৫ আগেই খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। বাড়িতে এসে মুসকানের পরকীয়া হাতেনাতে ধরে ফেলেন সৌরভ। এর পরই তাঁকে খুন করে মুসকান ও সাহিল। মেয়ের এই নৃশংস আচরনে স্তম্ভিত তার বাবা-মা। তাঁরা বলেন, ‘মুসকানকে খুবই ভালোবাসত সৌরভ। আমরা মেয়ের মৃত্যুদণ্ড চাই। এব্যাপারে জামাইয়ের পরিবারকে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করবেন তাঁরা।
২০১৬ সালে মুসকানকে পরিবারের অমতে গিয়ে বিয়ে করেন সৌরভ। বিয়ের পর থেকে তাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁদের পাঁচ বছরের একটি কন্যা রয়েছে। সৌরভ বাড়ি না থাকার সুবাদে মুসকান পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে বলে পুলিসের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন