বহরমপুর: পর্ন ইন্ডাস্ট্রির রঙ্গিলার যোগ ছিল বলে সন্দেহ করছে পুলিস। বিয়ের অছিলায় সিঙ্গাপুর থেকে ডেকে আনিয়ে পূর্ব বর্ধমানের যুবকের সর্বস্ব লুট করে পালিয়েছিল রঙ্গিলা। ওই যুবকের ই-মেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ডও হাতিয়ে নেয় সে। সেই আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়েই পর্ন সাইটে নিজের একটি আইডি খোলে রঙ্গিলা। পুলিসের মতে, সাধারণত এই ধরনের আইডি পর্ন তারকাদের থাকে। যারা সেই আইডিতে নগ্ন ভিডিও আপলোড করে। রঙ্গিলার এই আইডি থেকে কোনও ভিডিও পোস্ট হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাত নামে খ্যাত রঙ্গিলা সাতটি বিয়ে করে যুবকদের সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিতে সিদ্ধহস্ত ছিল। ফটোশপ করে নিজের ছবি বদলে একের পর এক যুবকের মাথা খেয়ে তাদের নানাভাবে প্রতারিত করেছে বীরভূমের লাভপুরের এই যুবতী। সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার। এক একজন যুবক তাকে ভালোবেসে, যে নামে ডাকত সেই নামেই প্রোফাইল চলত সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেখান থেকেই অপরিচিত হাই প্রোফাইল যুবকদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে নিজে থেকে আলাপচারিতা শুরু করত সে।
একইভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সিঙ্গাপুর থেকে এক গবেষণারত যুবককে বহরমপুরে ডেকে এনে বিয়ে করে ওই যুবতী। বিয়ের পর বহরমপুরের রাধারঘাট এলাকায় উত্তরপাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে তারা। দিন কুড়ি সংসার করার পর যুবকের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে চম্পট দেয় রঙ্গিলা। প্রতারিত হয়ে ওই যুবক বহরমপুর থানার দ্বারস্থ হয়। পুলিস যদিও প্রথমে রঙ্গিলার অভিযোগ পেয়ে যুবকের নামে মামলা রুজু করে। তারপর যুবকের অভিযোগ পেয়ে চোখ কপালে ওঠে পুলিসের। রঙ্গিলার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিস। বীরভূম থেকে যুবতীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিস। বর্তমানে ওই যুবতী পুলিসি হেফাজত শেষ করে জেলে রয়েছে। পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রঙ্গিলা নিজের করুণ পরিণতির গল্প বলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। তবে লাভ হয়নি কিছুই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন