মুর্শিদাবাদ: ফের আক্রান্ত পুলিশ। বাঁকুড়ার পর এবার মুর্শিদাবাদ। বড়ঞায় সেনামুখীতে বালি পাচারের বিরোধিতা করায় ক্যাশ ঢুকে পুলিশকে পেটাল দুষ্কৃতীরা। এরপর বুধবার রাতে মাটি পাচার রুখতে গিয়ে আক্রান্ত হয় এক পুলিশ আধিকারিক ও এক সিভিক ভলান্টিয়ার। মাটি মাফিয়ারা পাথর ও হাসুয়া নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরপর দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আইনের রক্ষকরাই যদি নিরাপদ না হয় তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে তারা?
প্রথম ঘটনাটি ঘটে বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা পুলিশ ক্যাম্প। নদী থেকে বালি চুরি করে পাচার করতে হবে এই দাবিতে সোনামুখী থানা পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়। এই ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মী জখম হন। পুলিশ জানিয়েছে, সোনামুখী থানার উত্তরবেড়িয়া এলাকার নদীর ওপারে নদিঘাট থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালি পাচারের কাজ চলছিল। নদীর ওপারে সোনামুখী থানার পুলিশ একটি ক্যাম্প থেকে নজরদারি চালায়। মঙ্গলবার ওই ক্যাম্পে একজন পুলিশ কর্মী ও দুজন সিভিক মোতায়েন ছিল। ওই রাতে নদিঘাট থেকে বালি চুরি করে পাচারের চেষ্টা করায় ক্যাম্পে থাকা পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার বাধা দেয়। তখনই পাচারকারীরা পুলিশের উপর পাল্টা হামলা চালায়। উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় ৭ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হল অজিত সরকার, কিশোর মালিক, রতন সরকার, দীপক মণ্ডল,সীমন্ত বিশ্বাস, রাজেশ দে ও সঞ্জীব সিং। বুধবার অভিযুক্তদের বিষ্ণুপুর আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক ধৃতদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রানীতলা থানার সরসপুরে। পুলিশের উপর মাটি মাফিয়ারা হামলা চালায়। জানা গিয়েছে, রানীতলা থানার সরসপুরে তেঁতুল তলা নদীর পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছিল। খবর পেয়ে রানীতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগ, তখন মাটি মাফিয়ারা পাথর ও হাসুয়া নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এরপর দুষ্কৃতীরা পালায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন