লন্ডন: একদিন আগেই কেলগ কলেজের ভাষণে বাংলার গরিমা তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাণিজ্য বৈঠক, বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান থেকে অক্সফোর্ডে ঐতিহাসিক ভাষণ—তাই ঘরে ফেরার দিনে সকাল থেকেই খোশমেজাজে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁর মেজাজের সঙ্গে যেন সুর মিলিয়েছে লন্ডনের আবহাওয়াও। গত রবিবার প্রবল ঠান্ডা, টিপটিপে বৃষ্টিভেজা লন্ডনে পা রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিন পর থেকেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে লন্ডনের বিখ্যাত (নাকি কুখ্যাত!) আবহাওয়াতেও। মেঘ-বৃষ্টিতে আকাশের ভার মুখ বদলে যায় রোদের হাসিতে। শুক্রবারেও সকাল থেকে ছিল রোদ ঝলমলে নীল আকাশ।
বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ডে যাওয়ার কারণে হাঁটার সুযোগ হয়নি। এদিন তা সুদে-আসলে পুষিয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরে সকলকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে যান গ্রিন পার্কে। পরনে সাদা শাড়ি, অফ-হোয়াইট রঙের হাফ ফ্লেক্স জ্যাকেট, সাদা-কালো চেক মাফলার, পায়ে ট্রেডমার্ক সাদা হাওয়াই চটি। চেনা গতিতে হাঁটছিলেন পার্কের পথ ধরে। আচমকাই কমল গতি। পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলেন বিশ্বযুদ্ধে শহিদ সেনাদের মেমোরিয়ালের দিকে। স্মৃতিসৌধে সেনা-মূর্তির সামনে রাখা লাল-নীল রঙের ফুলের তোড়া। শ্রদ্ধায়-স্মরণে তার সামনে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ফের শুরু হল পথচলা। গ্রিন পার্ক থেকে সোজা হাইড পার্কে। পরবর্তী গন্তব্য অক্সফোর্ড স্ট্রিট। সেখানে হাঁটতে হাঁটতেই দেখা সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে। মহারাজ অবশ্য একা নন—সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডোনা ও কন্যা সানা। তাঁদের সঙ্গে নিয়েই পা মেলালেন মমতা। কিছুক্ষণ হাঁটার পর কফি ব্রেক। হাল্কা খাওয়াদাওয়া। কিছুক্ষণ আলাপচারিতা শেষে গন্তব্য সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেল। লন্ডন সফর শেষে আজ এবার ঘরে ফেরার পালা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন