যাদবপুর: যাদবপুর কাণ্ডে শুরু থেকেই ‘খেলা হবে’ কথা বলতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। অরূপ বিশ্বাস স্পষ্ট জানিয়েছিলে, ‘যাদবপুর দখল করতে তাঁদের ৫ মিনিট সময় লাগবে’। এমনকী একই সুর শোনা গিয়েছিল সায়নী ঘোষ থেকে কুণাল ঘোষের গলাতেও। এবার পাল্টা ‘চালিয়ে’ খেলার হুঙ্কার এসএফআই-এর। হুঁশিয়ারির সুরে এমনও হল, তৃণমূল পুলিশের সাহায্যে ক্যাম্পাসে ঢুকে মারধর।
করলে দেওয়া হবে পাল্টা জবাব। ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে। সঙ্গে এও জানানো হল, ২০১১ থেকে ওরা ক্যাম্পাসে ‘ক্রেডিট সিন্ডিকেট, ক্রাইম সিন্ডিকেট, টেন্ডার সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছে’। ওরা যদি খেলা হবে পরিকল্পনা করে, তাহলে এবার আমরাও বলছি ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে চালিয়ে খেলা হবে। এদিন এ ভাষাতেই সাংবাদিক বৈঠক থেকে হুঙ্কার দিলেন এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাজ্জল দে।
প্রসঙ্গ, যাদবপুরকাণ্ডের পরেই সোমবার রাজ্যজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। ধর্মঘটের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন অশান্তির ছবিও দেখা যায়। একাধিক কলেজে টিএমসিপি-র সঙ্গে এসএফআই কর্মীদের সংঘর্ষের ছবিও দেখা যায়। এদিকে ইতিমধ্যেই যাদবপুরকাণ্ডের জল গড়িয়েছে আদালতে। আহত ছাত্র ইন্জিনির রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তা নিয়ে চাপানউতোর চলছে। অন্যদিকে শাসকের উপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে বামেরা। রোজই নেওয়া হচ্ছে নিত্যনতুন কর্মসূচি। এইমূহুর্তে এবার ফের সুর চড়ালেন ওটঠারসুররীরা। বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠক থেকে দেবাজ্জল বলেন, ‘বহিরাগত গুন্ডারা যদি ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে ছাত্রীদের মারতে থাকে, যদি বহিরাগত গুন্ডার পুলিশে সাহায্য নিয়ে তৃণমূল-টিএমসিপি-পুলিশ এক হয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে মেয়েদেরকে পেটাতে থাকে, রাজ্যে খেলা মারতে থাকে তাহলে কী সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আক্রমণকারীদের দিকে ফুল ছুঁড়বে? এটা ২০২৬ সাল। ওরা যদি খেলা হবে পরিকল্পনা করে থাকে তাহলে আমরাও বলছি ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে চালিয়ে খেলা হবে। এটার জন্য যেন সকলে প্রস্তুত হয়ে থাকে।’
এর প্রত্যুত্তরে পাল্টা সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদলও। তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য কটাক্ষের সুরে জানান, ‘ফেলে দেওয়া হাঁটুতে আর কেউ চোট করতে আসবেনা। ওরা যখন এত বড় বড় লেকচার দেয় তখন শুনে হাসি পায়’।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন