কলকাতা: ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের জন্য পশ্চিমবঙ্গের নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ৩.৮০ লাখ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করল। যা গত বছরের তুলনায় ২০.৬৩% বেড়েছে।সম্প্রতি কলকাতায় হওয়া রাজ্য ঋণ সেমিনারে এই কথা ঘোষণা করেন নাবার্ডের মুখ্য মহাব্যবস্থাপক পি. কে. ভরদ্বাজ।
জেলার পরিকল্পনা থেকে প্রান্ত ক্ষেত্রগুলিকে ঋণের সঙ্গে সব সম্ভাবনা একসঙ্গে করে রাজ্য স্তরে ‘স্টেট ফোকাস পেপার’ প্রকাশ করেন রিজার্ভ অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব প্রভাতকুমার মিশ্র। ছিলেন কৃষি বিভাগের প্রধান সচিব শুক্লা মীনা, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুখ্য মহাব্যবস্থাপক সুমিত মেরি এল. এন. সি. গুইতো, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সিডিএম সন্তোষ কুমার সিংহ, আরআরবি’র আহ্বায়ক ও মহাব্যবস্থাপক বলবীর সিংহ আর অন্যান্য সরকারি ও ব্যাঙ্কিং কর্মকতা।
নাবার্ডের জেনারেল ম্যানেজার পি. কে. ভরদ্বাজ জানান, ‘মোট ৩.৮০লাখ কোটি টাকার সম্ভাব্য ঋণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে কৃষি, কর্মসংস্থান অবকাঠামো আর সংযুক্ত কার্যক্রমের জন্য ৩৩.৪২% অর্থাৎ ১.২৭ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে’। পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় তিনি উৎপাদনকারী সংস্থা, জলবায়ু, সহনশীলতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ওপর বিশেষ জোর দেন।
এসএলবিসি’র জেনারেল কনভেনর বলবীর সিংহ নাবার্ডের কৃষি গবেষনার প্রশংসা করেন আর রাজ্যের রপ্তানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন।
ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের সি জি এম সন্তোষকুমার সিংহ ফসল বীমা চিত্রায়ণ ও টেকসই কৃষি অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সি জি এম সুমিত মেরি এল. এন. সি. গুইতো আর্থিক শিক্ষার প্রসার ও লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেন। আর নাবার্ড ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের যৌথ চেষ্টার জন্য ডাক দেন।
কৃষি বিভাগের প্রধান সচিব শুক্লা সিংহ জানান বলেন, এখন কৃষি ঋণ বিতরণ ৭৫,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে আর চলতি বছরে ১ লাখ কোটি টাকা পেরোতে পারে। তিনি বাজার চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পনা, GI ট্যাগিং, জল, ভুট্টা ও তৈলবীজের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব প্রভাতকুমার মিশ্র কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সহায়তা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন এম এস এম ই খাতে ২.০০ লাখ কোটি টাকার ঋণ সম্ভাবনা (৫২.৬৩% মোট লক্ষ্যমাত্রার) নির্ধারিত হয়েছে।
অন্যান্য অগ্রাধিকার খাত যেমন গৃহঋণ, শিক্ষা ঋণ, সামাজিক অবকাঠামো, রফতানি ঋণ, নবনবায়নযোগ্য শক্তি, ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণের জন্য ৩.৮০ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেমিনারে পান চাষের মূল্য শৃঙ্খল বিশ্লেষণের ওপর গবেষণামূলক প্রতিবেদন ও আদিবাসী উন্নয়ন তহবিল প্রকল্পের সাফল্যগাথা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল ও আদিবাসী প্রকল্পের তথ্যাচিত্র উন্মোচন করা হয়।
সি জি এম জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কৃষি প্রবৃদ্ধি স্বরান্তির সঙ্গে চায়ের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, এম এস এম ই, এই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে মূল ভূমিকা পালন করবে। নাবার্ড কৃষি মূলধন বিনিয়োগ, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতি আরো দৃঢ় করবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন