নেপি দ: ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও একের পর এক আফটার শকে তছনছ মায়ানমার। জোর কদমে চলছে উদ্ধারকাজ। তবে পরিকাঠামোগত অপ্রতুলতার কারণে প্রবল সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের। কার্যত খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া লোকজনকে বের করে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এদিকে, সময় যত বাড়ছে ততই লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬৯৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মায়ানমারের সামরিক শাসক প্রধান। জখম ১ হাজার ৬৭০ জন। যদিও, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংস্থা। এই বিপদের দিনে পড়শি দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকায় ১৫ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, কম্বল, রেডি টু-ইট মিল, ওয়াটার পিউরিফায়ার মেশিন, হাইজিন কিট, সোলার ল্যাম্প, জেনারেটর সেট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত থাইল্যান্ডও। দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংককে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ ১০০ নির্মাণকর্মী। একটি নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজ করছিলেন তাঁরা।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মায়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৭ মাত্রার। উৎসস্থল মায়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের কাছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। সেই কম্পনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ৬.৪ তীব্রতার আফটার শক। এরপর আরও চারটি কম্পন। বাড়ি-ঘর, রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, প্যাগোডা কোনও কিছুই ধারাবাহিক কম্পনের অভিঘাত থেকে রক্ষা পায়নি। ভেঙে পড়ছে ইরাবতী নদীর উপর ব্রিটিশ আমলে তৈরি ৯১ বছরের পুরনো আভা সেতু। মান্দালয়ে নামাজ চলাকালীন ধসে পড়ে মসজিদ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন