গঙ্গারামপুর: খরা শুরু হতেই জলের জন্য হাহাকার। গঙ্গারামপুরের পুনর্ভবা নদী শুকিয়ে চর বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে নদী ভারতে প্রবাহিত হতেই শুকিয়ে যাচ্ছে জল। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যায় কৃষক থেকে শুরু করে মৎস্যজীবীরা।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তিনটি প্রধান নদী আত্রেয়ী, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন। এখন নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। গঙ্গারামপুরের হামজাপুর এলাকা থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে পুনর্ভবা নদী। গঙ্গারামপুর ও তপন ব্লকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফের বাংলাদেশে গিয়েছে নদীটি। একটা সময়ে খরস্রোতা হিসেবে পরিচিত ছিল পুনর্ভবা। কিন্তু এখন জল শুকিয়ে চেনা দায়। নদীবক্ষে সারি সারি নৌকা থাকলেও জলের অভাবে চালাতে পারছেন না মত্স্যজীবীরা। পেট চালানোর তাগিদে নদী পারের মৎস্যজীবীরা পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলায় হারাতে বসেছে নদিয়ালী মাছ। একইভাবে চাষের কাজে জল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদের কোনও উদ্যোগ নেই বলেই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ রায়ের আক্ষেপ, আমাদের নদী মরে গিয়েছে। বাংলাদেশ ১৫ দিন আগে এমন জল ছেড়েছিল যে শিববাড়ি এলাকায় অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো ডুবে যায়। তারপর থেকে নদী শুকিয়ে চর জেগেছে। প্রশাসন না দেখলে নদীর অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা চাষের জল পাই না। মৎস্যজীবীরা পেশা বদলে নিচ্ছেন।
সূত্রের খবর, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলা ও ঠাকুরগাঁও এই দু’জায়গায় ড্যাম করে পুনর্ভবা নদীর জল নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ। গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন রায়ের কথায়, বাংলাদেশ গায়ের জোরে নদীর জল আটকে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করুক রাজ্য। তারপর বিদেশমন্ত্রকে লিখিত জানাব। পুনর্ভবা নদীর খনন হয় না বলে নাব্যতা হারিয়েছে। রাজ্য সরকার খনন করে খরায় জল ধরার ব্যবস্থা করুক।
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন