পাকিস্তানে যাত্রীবোঝাই ট্রেন হাইজ্যাক, পণবন্দি ১৮২, হত ২০ সেনা - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫

পাকিস্তানে যাত্রীবোঝাই ট্রেন হাইজ্যাক, পণবন্দি ১৮২, হত ২০ সেনা



ইসলামাবাদ: শ’পাঁচেক যাত্রী নিয়ে পাকিস্তানের কোয়েট্টা থেকে রওনা দিয়েছিল জাফর এক্সপ্রেস। গন্তব্য ১৬০০ কিমি দূরের শহর, পেশোয়ার। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই থমকাল ট্রেনের চাকা। সকলকে হতভম্ব করে যাত্রী সহ আস্ত ট্রেন হাইজ্যাক করল বালোচ বিদ্রোহীরা! স্বাধীন বালুচিস্তানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা লড়াই করছে। কিন্তু মঙ্গলবার একেবারে সিনেমার কায়দায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তাদের কাছে খবর ছিল, ওই ট্রেনে যাচ্ছে পাকিস্তানি সেনা, পুলিস, অ্যান্টি টেররিজম ফোর্স ও পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রায় ২০০ সদস্য। তাদেরকেই মূল টার্গেট করা হয়। প্রথমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয় রেললাইন। তারপর একটি টানেল থেকে ট্রেনটি বেরতেই বিদ্রোহীরা চারদিক থেকে গুলি চালায়। ব্রেক কষতে বাধ্য হন লোকোপাইলট। ততক্ষণে ট্রেনটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে বালোচ গেরিলারা। পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করে ট্রেনে থাকা পাকিস্তানি সেনার সদস্যরাও। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। উল্টে বিদ্রোহীদের গুলিতে প্রাণ গিয়েছে ৩০ জন পাক সেনার। যদিও সংখ্যাটা প্রায় দেড়শো বলেই দাবি বিএলএ-র। অন্যদিকে, পাকিস্তানি   নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তারা ওই ট্রেন থেকে ৮০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছে। গুলির লড়াইয়ের মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন বালোচ বিদ্রোহীর।

প্রথমে ৪৫০ জন ট্রেনযাত্রীকেই পণবন্দি করে রাখার খবর এসেছিল সংবাদমাধ্যমে। পরে বিদ্রোহীরা দাবি করে, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইএসআইয়ের সদস্যদের বাদ দিয়ে সব সাধারণ যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পণবন্দির সংখ্যা ১৮২ জন। এক বিবৃতিতে বিএলএ আরও জানায়, মাশকাফ, ধাদার ও বোলান এলাকায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’রা নিখুঁত অপারেশন চালিয়ে জাফর এক্সপ্রেসের দখল নিয়েছে। অপারেশনে অংশ নিয়েছিল তাদের তিনটি বিশেষ ইউনিট—মজিদ ব্রিগেড, এসটিওএস ও ফতেহ স্কোয়াড। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, পেহরো কুনরি ও গাদালারের মধ্যে এই হামলা হয়। এলাকাটি জনবিরল হওয়ায় পাক রেলের আধিকারিকরা প্রথমে এই ঘটনার কথা জানতেই পারেননি। খবর পাওয়ার পর সড়ক ও আকাশপথে ঘটনাস্থলে রওনা দেয় সেনা ও অন্য নিরাপত্তা বাহিনী। 

পরিস্থিতি সামলাতে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে বালুচিস্তানের স্থানীয় প্রশাসন। আকাশপথে কপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ হয় বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে। গুলির লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। একটি ভিডিওয় ট্রেনটির একটি কামরায় আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে। যদিও বিএলএর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে তাদের কমান্ডাররা। তবে এখনও কপ্টার থেকে বোমা ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে পাক সেনা। জবাবে বিমান ধ্বংসকারী কামান ব্যবহার করে বালোচ লিবারেশন আর্মি। তাদের চরম হুঁশিয়ারি—‘পণবন্দিরা রয়েছে আত্মঘাতী বাহিনী মজিদ ব্রিগেডের কড়া পাহারায়। পণবন্দিদের ছাড়াতে পাক সরকার যদিও আর কোনও অভিযানের পরিকল্পনা করে, তাহলে সকলকে খুন করা হবে। যে কোনও রক্তপাতের জন্য দায়ী থাকবে ইসলামাবাদই।’ ফলে দুর্গম এলাকা থেকে কোন পথে পণবন্দিদের ছাড়িয়ে আনা হবে, তা নিয়ে কার্যত আঁধারে শাহবাজ শরিফ প্রশাসন!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন