ইসলামাবাদ, ১০ মার্চ: বিস্ফোরক জ্যাকেট পরে যাত্রীবাহী বালোচিটস্টানের বিদ্রোহীদের। মহিলা এবং শিশুদের ‘মানবঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন। তা সত্ত্বেও কী ভাবে জাফর এক্সপ্রেস অভিযানে সফল হল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী? ৩০০-র বেশি যাত্রীকে কী ভাবে নিরাপদে সরিয়ে আনা হল বিদ্রোহীদের কবল থেকে? পাক সেনা আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, স্নিপার বাহিনী ব্যবহার করে সফল হয়েছেন তাঁরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র হিসাবে একটি সংবাদমাধ্যমে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ বলছেন, ‘সময় হিসাব করে খুব সতর্কণে উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায় শেষ হয়। সকল পণবন্দিকে মুক্ত করা হয়। যেহেতু যাত্রীদের ‘মানবঢাল’ করেছিল জঙ্গিরা, আমরা সহজে এগোতে পারছিলাম না। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের সবসময় মাথায় রাখতে হচ্ছিল। তাই পুরো অভিযান সম্পন্ন করতে এত সময় লেগেছে। আমরা সাবধানে প্রতিটি পদক্ষেপ করেছি।’ এরপরই স্নিপার বাহিনীর সাফল্যের কথা জানান শরিফ। জাফর এক্সপ্রেস থেকে এক এক করে যাত্রীদের বার করে ট্রেনের সামনে দাঁড় করানো হয়েছিল। পরিচয়পত্র ধরে ধরে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। বাকিদের এক জায়গায় জড়ো করে তাঁদের সঙ্গেই দাঁড় করানো হয় বিস্ফোরক ভর্তি জ্যাকেট পরা জঙ্গিদের। এই জঙ্গিরা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে মিশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের চিহ্নিত করা কঠিন ছিল। দূর থেকে স্নিপার বাহিনী বেছে বেছে এই জঙ্গিদের নিশানা করে। তাঁদের শরীরের এমন অংশে গুলি করা হয়, যেখানে বিস্ফোরক নেই। শরিফ জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনাতেই সাফল্য এসেছে। অভিযানের সময়ে কোনোও যাত্রীর গায়ে আঁচ লাগেনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বুধবার রাতে জানায়, ৩৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩০০-র বেশি যাত্রীকে। পণবন্দিরা সকলেই মুক্ত বলে দাবি করা হয়। তবে সেনাবাহিনীর তরফে ২৭ জনের মৃত্যুর কথাও স্বীকার করা হয়েছিল। সেনার বক্তব্য ছিল, জাফর এক্সপ্রেসে ২৭ জন নিরাপত্তা আধিকারিক সাধারণ যাত্রী হিসাবে ছিলেন। তাঁরা কর্তব্যরত ছিলেন না। তাঁদের বেছে বেছে হত্যা করেছেন বিদ্রোহীরা। এছাড়া, তাঁদের সঙ্গে গুলিতে লড়াইয়ে এক নিরাপত্তা আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা ২৭। যদিও জাফর এক্সপ্রেসের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পাক সেনার পরিসংখ্যান অস্বীকার করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন